লিঙ্কডইন প্রোফাইল আরও আকর্ষণীয় করতে সিভি যুক্ত করার কৌশল

আইটি ডেস্ক:

বর্তমান চাকরির বাজারে শুধু প্রচলিত সিভি থাকলেই চাকরিদাতার কাছে নিজেকে কার্যকরভাবে তুলে ধরা যায় না। পেশাজীবীদের অন্যতম জনপ্রিয় অনলাইন প্ল্যাটফর্ম লিঙ্কডইনেও প্রোফাইল কতটা গোছানো ও পেশাদার, সেটি ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে অনেকেই জানেন না, নিজের তৈরি পিডিএফ বা ওয়ার্ড ফাইলের সিভি কীভাবে লিঙ্কডইন প্রোফাইলে সঠিকভাবে যুক্ত করা যায়।

সিভি ও লিঙ্কডইন প্রোফাইলকে আরও আকর্ষণীয় ও পেশাদার করে তুলতে কয়েকটি বিষয় অনুসরণ করা যেতে পারে।

‘Featured’ সেকশনে সিভি যুক্ত করুন

লিঙ্কডইন প্রোফাইলের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর একটি হলো ‘Featured’ সেকশন। এখানে সিভি যুক্ত করলে প্রোফাইলে আসা নিয়োগকর্তা বা অন্য ব্যবহারকারীরা সহজেই সেটি দেখতে পারবেন।

এ জন্য প্রথমে নিজের প্রোফাইলে গিয়ে ‘Add profile section’-এ ক্লিক করতে হবে। এরপর ‘Recommended’ থেকে ‘Add featured’ নির্বাচন করে প্লাস (+) চিহ্নে ক্লিক করতে হবে। সেখান থেকে ‘Add media’ অপশন ব্যবহার করে হালনাগাদ সিভির পিডিএফ ফাইল আপলোড করা যাবে।

সিভির ফাইলের নামও পরিকল্পিতভাবে দেওয়া ভালো। শুধু ‘CV’ না লিখে ‘Your Name_CV_Job Title’ ফরম্যাট ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে নিয়োগকর্তা ফাইলটি ডাউনলোড করার পর সহজেই সেটি শনাক্ত করতে পারবেন।

একই সিভি বারবার আপলোড করার ঝামেলা কমাতে লিঙ্কডইনের ‘Application Settings’ সুবিধা ব্যবহার করা যায়। এ জন্য Settings-এ গিয়ে ‘Data privacy’ এবং এরপর ‘Job application settings’-এ যেতে হবে। সেখানে সিভি আপলোড করে সংরক্ষণ করা যায়।

এর ফলে ‘Easy Apply’ সুবিধার মাধ্যমে বিভিন্ন চাকরিতে আবেদন করার সময় সংরক্ষিত সিভি ব্যবহার করা সহজ হয়।

চাকরিপ্রার্থীদের একটি সাধারণ ভুল হলো সিভি ও লিঙ্কডইন প্রোফাইলে ভিন্ন তথ্য দেওয়া। সিভিতে উল্লেখ করা চাকরির সময়কাল, পদবি ও প্রতিষ্ঠানের নামের সঙ্গে লিঙ্কডইনের ‘Experience’ সেকশনের তথ্যের সামঞ্জস্য থাকা জরুরি।

দুই জায়গায় তথ্যের অমিল থাকলে নিয়োগকর্তার কাছে প্রার্থীর পেশাদারিত্ব ও তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।

বর্তমানে অনেক প্রতিষ্ঠান সিভি বাছাইয়ের ক্ষেত্রে অ্যাপ্লিকেন্ট ট্র্যাকিং সিস্টেম বা এআইভিত্তিক সফটওয়্যার ব্যবহার করে। তাই যে ধরনের চাকরির জন্য আবেদন করছেন, সেই ক্ষেত্রের প্রচলিত ও গুরুত্বপূর্ণ কী-ওয়ার্ড সিভিতে রাখা কার্যকর হতে পারে।

একই ধরনের প্রাসঙ্গিক কী-ওয়ার্ড লিঙ্কডইনের ‘Headline’ ও ‘About’ সেকশনেও ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে সংশ্লিষ্ট দক্ষতা বা পদের ভিত্তিতে প্রোফাইল খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়তে পারে।

আধুনিক পেশাদার সিভিতে বর্তমান বা স্থায়ী ঠিকানা, রক্তের গ্রুপ কিংবা বাবা-মায়ের নামের মতো তথ্য সাধারণত দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং নিজের নাম, পেশাদার ই-মেইল ঠিকানা, ফোন নম্বর এবং লিঙ্কডইন প্রোফাইলের লিংকের মতো প্রয়োজনীয় তথ্য রাখাই যথেষ্ট।

লিঙ্কডইন প্রোফাইলকে অনেকটা ‘জীবন্ত সিভি’ হিসেবে বিবেচনা করা যায়। তাই শুধু একটি সিভি তৈরি করলেই হবে না, লিঙ্কডইন প্রোফাইলের তথ্যও নিয়মিত হালনাগাদ করা জরুরি।

সিভিটি প্রোফাইলের উপযুক্ত জায়গায় যুক্ত করার পাশাপাশি অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও পেশাগত তথ্য গোছানোভাবে উপস্থাপন করলে চাকরিপ্রার্থী নিজেকে আরও আধুনিক ও ডিজিটাল যুগের উপযোগী পেশাজীবী হিসেবে তুলে ধরতে পারবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *