শাহরাস্তি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে এসে চোরের খপ্পরে রোগিরা আটক -১

মোসাদ্দেক হোসেন জুয়েল:

শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে এসে প্রতিদিন চোরের খপ্পরে পড়তে হচ্ছে রোগীদের। দীর্ঘদিন যাবৎ এই অবস্থা বিরাজ করছে, তবুও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যথাযথ কোন পদক্ষেপ নেনি। উপজেলা স্বাস্থ্য কমিটির সভায় এ বিষয়ে কয়েকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও কার্যত কোনো সুরাহা হয়নি। এরফলে প্রতিদিন বাড়ছে ছিনতাই ও চুরির ঘটনা।

চলতি সপ্তাহের ২৫ জানুয়ারি রুমাকুসুম নামের দুই মহিলার গলা থেকে স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয় চোর চক্রের সদস্যরা, যা এলাকা জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। একই কায়দায় মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি ২০২৫) দুপুরে কচুয়া উপজেলার আশ্রাফপুর থেকে ডাক্তার দেখাতে এসে শিরিন আক্তার বহিঃবিভাগের টিকেট সংগ্রহ করতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তার গলা থেকে স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়ার সময় হাতেনাতে এক মহিলাকে ধরে ফেলে।

এসময় উপস্থিত অন্যান্য লোকজন উক্ত মহিলাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কক্ষে নিয়ে যায়। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শাহরাস্তি থানা পুলিশের কাছে তাকে সোপর্দ করে। পুলিশ জানায়, আটকৃত মহিলা চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য। তার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলায়, নাম কহিনুর বেগম, স্বামী: আব্দুল মালেক, গ্রাম: ধরমন্ডল। তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি চুরির মামলা রয়েছে।

জানা গেছে, সরকারি হাসপাতালে বহির বিভাগের টিকেট সংগ্রহ করতে গিয়ে যখন ভিড়ের সৃষ্টি হয়, সেই সুযোগে তারা বোরখা পরা অবস্থায় চুরি করে থাকে। এছাড়া হাসপাতালের নিরাপত্তায় থাকা সিসি ক্যামেরা ঠিক মতো কাজে আসছে না। চুরি সংঘটিত হওয়ার সময় সিসি ক্যামেরার মুখ অন্যদিকে ঘুরিয়ে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

অনেকেই হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। রোগিদের নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে হাসপাতাল কতৃপক্ষের উদাসীনতা রয়েছে বলে তারা জানান।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আকলিমা জাহান জানান, যে মহিলার শরীরে হাত দেয়া হয়েছে, তিনিই অভিযুক্ত মহিলাকে সনাক্ত করেছেন। “আমরা থানা পুলিশের কাছে চোরকে সোপর্দ করেছি। সিসি ক্যামেরার মুখ অন্যদিকে ঘুরিয়ে রাখা হয়েছে এ বিষয়ে আমি জানি না। তবে ভিড়ের মধ্যে চোর সনাক্ত করা কঠিন। আমরা চেষ্টা করছি পরিবেশ ঠিক রাখতে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *