রায়হান আলী:
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা ইউনিয়নের চলনাকাথী গ্রামের একটি অসহায় ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী পরিবারের পৈত্রিক জমি জোরপূর্বক দখল, মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা গতকাল স্থানীয় সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে এই সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, চলনাকানথী গ্রামের এক পরিবারের ৭ ভাই-বোনের মধ্যে ৫ জনই জন্মগতভাবে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি, যা রেকর্ড অনুযায়ী তাদের ভোগদখলে ছিল, তা একই গ্রামের প্রভাবশালী একটি চক্র জোরপূর্বক দখলের পাঁয়তারা করছে। গত ৮ অক্টোবর অভিযুক্ত ৮-১০ জন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাদের আলু ও মরিচ চাষের জন্য প্রস্তুতকৃত জমি দখল করে নেয়।
ভুক্তভোগীরা বাধা দিতে গেলে অভিযুক্তরা তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং বাড়িঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলার পাশাপাশি সপরিবারে হত্যার হুমকি প্রদান করে।
মামলার ইতিহাস ও আইনি জটিলতা
লিখিত বক্তব্যে আরও উল্লেখ করা হয়:
-
১৯৬২ সালের এম.আর.আর এবং পরবর্তীতে আর.এস খতিয়ান অনুযায়ী জমিটির মালিক ভুক্তভোগীদের পূর্বপুরুষ।
-
বিগত কয়েক দশকে অভিযুক্তরা বিভিন্ন সময় (১৯৬৮, ১৯৬৯, ১৯৯০ এবং ২০১৯ সালে) আদালতে একাধিক মামলা দায়ের করলেও প্রতিটি মামলা আদালত কর্তৃক খারিজ (Dismiss) হয়ে যায়।
-
বর্তমানে আদালতে একটি মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অভিযুক্তরা জমি দখলের উৎসবে মেতেছে।
-
পুলিশি তদন্তে ঘটনার সত্যতা মেলায় ইতিপূর্বে ১০৭/১১৭ ধারায় এন.জি.আর মামলা দেওয়া হলেও অভিযুক্তরা কর্ণপাত করছে না।
-
অভিযুক্তদের নাম মোঃ শামিম, মোঃ শাহআলম, মোঃ ফিজুল, মোঃ সুজন মিয়া, মোঃ জাফরুল ইসলাম, মোঃ বজলু মিয়া সহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।
অসহায় পরিবারের আকুতি
সংবাদ সম্মেলনে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ভাই-বোনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা বলেন, “আমরা শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ার সুযোগ নিয়ে প্রভাবশালীরা আমাদের শেষ সম্বলটুকু কেড়ে নিতে চাইছে। আমরা এখন নিজ বাড়িতেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। পুলিশ ও প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও স্থায়ী কোনো সমাধান পাচ্ছি না।”
তারা স্থানীয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এই জমি দখলমুক্ত করতে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।