শিশু ইয়ামালকে কোলে নিয়েছিলাম, আজ বিশ্বকাপ ফাইনালে প্রতিপক্ষ’—ঐতিহাসিক ছবি নিয়ে মুখ খুললেন মেসি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে অবিশ্বাস্য কাকতালীয় ঘটনাগুলোর একটি যেন বাস্তবে রূপ নিয়েছে। ২০০৭ সালে মাত্র পাঁচ মাস বয়সী লামিন ইয়ামালকে কোলে নিয়ে একটি চ্যারিটি ফটোশুটে অংশ নিয়েছিলেন লিওনেল মেসি। প্রায় দুই দশক পর সেই শিশুই এখন স্পেনের সবচেয়ে বড় তারকা, আর বিশ্বকাপ ফাইনালে মেসির আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ।

২০০৭ সালের ডিসেম্বরে বার্সেলোনায় ইউনিসেফের একটি দাতব্য ক্যালেন্ডারের ফটোশুটে পাঁচ মাস বয়সী ইয়ামালকে গোসল করাতে সাহায্য করেছিলেন তখনকার ২০ বছর বয়সী মেসি। সেই ছবিই আজ ফুটবল বিশ্বের অন্যতম আলোচিত স্মৃতি।

বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে নিউইয়র্কে সেই ঐতিহাসিক ছবি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে আবেগাপ্লুত মেসি বলেন, ‘সত্যি বলতে, ছবিটা একদম পাগলামির মতো। এটাই তো জীবন! যখন ও শিশু ছিল, তখন আমরা একসঙ্গে ছবি তুলেছিলাম। আর আজ আমরা দুজন বিশ্বকাপের ফাইনালে একে অপরের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছি।’

৩৯ বছর বয়সী মেসির জন্য এটি হতে পারে বিশ্বকাপের মঞ্চে শেষ ম্যাচ। আর্জেন্টিনার হয়ে চতুর্থ বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের স্বপ্ন নিয়ে তিনি মাঠে নামবেন। অন্যদিকে মাত্র ১৯ বছর বয়সেই স্পেনের সবচেয়ে বড় ভরসা হয়ে উঠেছেন লামিন ইয়ামাল। বার্সেলোনায় নিজের অসাধারণ পারফরম্যান্সের মাধ্যমে অনেকের কাছেই তিনি মেসির উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।

ইয়ামালের প্রশংসা করে মেসি বলেন, ‘লামিন অসাধারণ প্রতিভাবান। আমি ওকে খুব কাছ থেকে অনুসরণ করি, কারণ ও আমার প্রিয় ক্লাব বার্সেলোনায় খেলে। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই ও বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়দের কাতারে জায়গা করে নিয়েছে। সামনে ওর পুরো ক্যারিয়ার পড়ে আছে এবং ইতিহাস গড়ার দারুণ সুযোগ রয়েছে। তবে আমরা অবশ্যই চেষ্টা করব, অন্তত এবার যেন সেটা ও করতে না পারে। তারপরও আমি ওর জন্য শুভকামনা জানাই।’

আর্জেন্টাইন অধিনায়ক আরও বলেন, ‘নিঃসন্দেহে ও এই মুহূর্তে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার। ওর সাফল্য কামনা করি, কারণ ওর ভালো হওয়া মানেই বার্সেলোনার ভালো হওয়া।’

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেসি-ইয়ামালের সেই ছবিকে ঘিরে চলছে ব্যাপক আলোচনা। অনেকেই হিসাব কষে দেখিয়েছেন, ২০০৭ সালের একটি ফটোশুটের দুই ব্যক্তি প্রায় ২০ বছর পর বিশ্বকাপ ফাইনালে প্রতিপক্ষ হওয়ার সম্ভাবনা ছিল প্রায় ৪ হাজার ৮০০ কোটিতে মাত্র একবার। ফলে ঘটনাটিকে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে অবিশ্বাস্য কাকতালীয় ঘটনাগুলোর একটি বলেই মনে করছেন অনেকে।

২০২৪ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ চলাকালে ইয়ামালের বাবা মুনির নাসরাউই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিগুলো প্রকাশ করলে সেগুলো নতুন করে আলোচনায় আসে। সে সময় তিনি স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মুন্ডো দেপোর্তিভোকে বলেছিলেন, ‘জীবনে এমন কিছু কাকতালীয় ঘটনা ঘটেই যায়।’

যদিও অনেকের বিশ্বাস ছিল, ছবির মাধ্যমে মেসি যেন নিজের প্রতিভার আশীর্বাদ ভবিষ্যৎ উত্তরসূরির কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন। তবে ইয়ামালের বাবা বিষয়টি নিয়ে রসিকতা করে বলেন, ‘হতেও তো পারে, লামিনই লিওকে সেই প্রতিভার ছোঁয়া দিয়েছিল! আমার কাছে আমার ছেলেই সেরা।’

ছবিগুলোর আলোকচিত্রী জোয়ান মনফোর্ট পরে দ্য অ্যাথলেটিক-কে জানান, ছবিটি তুলতে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল। কারণ, তরুণ মেসি তখন অত্যন্ত লাজুক ছিলেন। ধীরে ধীরে শিশুটির সঙ্গে স্বাভাবিক হয়ে ওঠার পরই তোলা সম্ভব হয়েছিল সেই ঐতিহাসিক ছবি।

মনফোর্টের ভাষায়, ‘তখন কেউ কল্পনাও করতে পারেনি, এই শিশুটি একদিন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় তারকা হবে। আবার মেসিও যে কিংবদন্তির পর্যায়ে পৌঁছাবেন, সেটিও তখন কারও জানা ছিল না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই পুরো ঘটনাটি ঘটার সম্ভাবনা ছিল লটারি জেতার মতোই অলৌকিক। কিন্তু অবিশ্বাস্য হলেও আজ সেটিই বাস্তব।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *