এ আর সুমন:
সিলেটের বিয়ানীবাজারে চার বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ফরিদ মিয়া নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযুক্তের ছোট ভাই অষ্টগ্রাম উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব মিয়া। এ ঘটনায় অভিযুক্তের রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। তবে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তিনি প্রভাব খাটিয়েছেন কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি ঘটেছে সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সুপাতলা এলাকায়। ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার এবং অভিযুক্ত ফরিদ মিয়ার গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম উপজেলার পূর্ব অষ্টগ্রাম এলাকায়।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ তারিখ সকাল ১০টার দিকে পাশের বাড়ির ফরিদ মিয়া চার বছর বয়সী শিশুটিকে ডেকে নিয়ে যান। পরে শিশুটিকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।
পরবর্তী সময়ে শিশুটির শারীরিক আচরণে অস্বাভাবিকতা লক্ষ করেন পরিবারের সদস্যরা। এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তাঁরা ঘটনার কথা জানতে পারেন। এরপর শিশুটিকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ফরিদ মিয়ার ছোট ভাই ও অষ্টগ্রাম উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব মিয়া বলেন, ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হলে তিনি নিজের বড় ভাইয়েরও শাস্তি দাবি করেন।
বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাফর মিয়া জানান, এ ঘটনায় ইতোমধ্যে মামলা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত ফরিদ মিয়া পলাতক রয়েছেন। তাঁকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। দ্রুত তাঁকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর অষ্টগ্রাম উপজেলাতেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত ফরিদ মিয়ার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। তাঁদের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
শিশুটির নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি কোনো ধরনের প্রভাব বা পরিচয় যেন তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, এমন প্রত্যাশা জানিয়েছেন এলাকাবাসী।