শুকনো মৌসুমেও পাহাড় ধ্বসে মৃত্যুর মিছিল থেমে নেই, কক্সবাজারে অবৈধ পাহাড় কাটার মহোৎসব

আব্দু রহমান:

কক্সবাজারের দক্ষিণ বনবিভাগের আওতাধীন উখিয়া উপজেলার পাহাড়ি এলাকায় অব্যাহত অবৈধ পাহাড় কাটার মহোৎসব চলছেই। আর এতে করে শুকনো মৌসুমেও পাহাড় ধ্বসে মৃত্যুর মিছিল থেমে নেই। নির্মম পরিণতি আবারও প্রাণ কেড়ে নিল জেলার উখিয়ায় এক শ্রমিকের। প্রশাসনের চোখের সামনে চলতে থাকা পাহাড় কাটা ও মাটি বিক্রির সময় পাহাড় ধসে মাটিচাপা পড়ে নুরুল আমিন (৩০) নামে এক শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

নতুন বছরে এটি প্রথম ঘটনা হলেও, গত এক বছরে জেলায় এটি ১৭তম মৃত্যু। আর কত মৃত্যু হলে বন বিভাগের হুঁশ ফিরবে—এমন প্রশ্ন উত্থাপন করছেন সচেতন মহল।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে হেলাল নামের এক প্রভাবশালীর নিয়ন্ত্রণে ওই এলাকায় প্রকাশ্যে পাহাড় কেটে মাটি উত্তোলন ও বিক্রি করা হচ্ছিল। বনবিভাগ ও প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি না থাকায় দিনের পর দিন চলছিল এই পরিবেশবিধ্বংসী কার্যক্রম। জীবিকার তাগিদে নুরুল আমিনও ওই ঝুঁকিপূর্ণ অবৈধ কাজে যুক্ত হন।

ভোরের অন্ধকারে পাহাড় কাটার সময় হঠাৎ পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই মাটির নিচে সম্পূর্ণ চাপা পড়েন নুরুল আমিন। ঘটনাস্থলে থাকা অন্য শ্রমিকরা প্রাণভয়ে পালিয়ে গেলে তিনি একাই মাটির নিচে আটকে পড়েন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পাহাড় ধসের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে মাটি সরিয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। দীর্ঘ সময় চেষ্টার পর তাকে উদ্ধার করা হলেও ততক্ষণে তার মৃত্যু নিশ্চিত হয়। ঘটনাস্থলে শোকের মাতম শুরু হয়।

স্থানীয় সচেতন মহল অভিযোগ করেন, কক্সবাজারের পাহাড়গুলো দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলদার ও মাটি ব্যবসায়ীদের দখলে রয়েছে। প্রশাসন ও বনবিভাগের নীরবতা এবং কিছু অসাধু ব্যক্তির ছত্রচ্ছায়ায় দিনের পর দিন পাহাড় কাটা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এর আগেও একাধিকবার পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটলেও কোনো দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় এমন মৃত্যুর পুনরাবৃত্তি ঘটছে।

এ বিষয়ে স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে অবৈধ পাহাড় কাটা বন্ধ করা, জড়িতদের আইনের আওতায় আনা এবং নিহত শ্রমিকের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। নইলে উখিয়ার পাহাড়ে এমন প্রাণহানি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *