শেখ হাসিনাসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি ২৯ নভেম্বর

নিজস্ব প্রতিবেদক:

কক্সবাজারের টেকনাফে কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়েছে। আসামিপক্ষের আইনজীবীদের অনুপস্থিতি ও সময়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ২৯ নভেম্বর শুনানির নতুন দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

এদিন মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে প্রসিকিউশনের শুনানির দিন ধার্য ছিল। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে আসামিপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ মিজানুর রহমান ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হতে পারেননি। অন্য আইনজীবী তবারক হোসেন স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য দেশের বাইরে থাকায় আসামিপক্ষ সময়ের আবেদন করে।

আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জানান, দুই আইনজীবীর অনুপস্থিতিতে শুনানি পরিচালনা করা সম্ভব নয়। এ কারণে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় চাওয়া হয়। তবে প্রসিকিউটর মোহাম্মদ অলি মিয়া এ আবেদনের বিরোধিতা করেন। তাঁর বক্তব্য, আসামিপক্ষ এরই মধ্যে একাধিকবার সময় চেয়েছে। তাই নতুন করে সময় না দেওয়ার আবেদন জানান তিনি।

উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনে ট্রাইব্যুনাল আগামী ২৯ নভেম্বর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন নির্ধারণ করেন।

এদিন সকালে মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তাঁরা হলেন কক্সবাজার-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব আলম এবং র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক কর্নেল (অব.) আনোয়ার লতিফ খান।

শেখ হাসিনাসহ মামলার অপর সাত আসামি পলাতক রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ, মেজর (অব.) রুহুল আমিন, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আশেকুর রহমান এবং ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা স্কোয়াড্রন লিডার নাজমুস সাকিব মাহমুদ।

এর আগে, গত ৭ সেপ্টেম্বর পলাতক সাত আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। এর আগে ২৫ আগস্ট তাঁদের আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়ে দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে ৭ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত হাজিরার দিনে গ্রেপ্তার চার আসামি ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হলেও পলাতক আসামিরা আত্মসমর্পণ করেননি। গত ২৬ জুলাই ১১ আসামির বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২৬ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজারের টেকনাফের কিরণতলীর হোটেল নেটংয়ের সামনের সড়ক থেকে একরামুল হককে তুলে নেওয়া হয়। পরে রাত ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নোয়াখালিয়াপাড়ায় মেরিন ড্রাইভের সাগরতীরে র‍্যাবের কথিত বন্দুকযুদ্ধে তিনি নিহত হন। একরামুল হক টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ছিলেন।

এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে আটক, অপহরণ, বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে গুলি করে হত্যা, অপরাধ সংঘটনে সংশ্লিষ্টতা, প্ররোচনা, সহায়তা এবং হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ এনেছে প্রসিকিউশন। অভিযোগগুলোর বিচারিক নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *