শ্রীপুরে রিপ্রেজেনটেটিভের ভুল ওষুধ প্রয়োগে ৫ কোটি পোনা মাছের মৃত্যু

মেহেদী হাসান:

গাজীপুরের শ্রীপুরে ভুল ওষুধ প্রয়োগের কারণে এক খামারির পুকুরের প্রায় ৫ কোটি পোনা মাছ মারা গেছে। এতে খামারির আনুমানিক ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। সোমবার সন্ধ্যায় শ্রীপুর উত্তরপাড়া মাঝিবাড়ি মৎস্য খামারে এ ঘটনা ঘটে।

সরেজমিনে দেখা যায়, পুকুরে ভেসে উঠেছে হাজার হাজার পোনা মাছ। পচা মাছের তীব্র দুর্গন্ধে আশপাশে থাকা দুষ্কর হয়ে পড়েছে। খামারি নিজে পচা মাছ তুলে পাড়ে জমা করছেন।

মৎস্য খামারের মালিক আব্দুল হামিদ জানান, প্রায় আট মাস আগে তিনি ১৩ কেজি রেণু (প্রায় ১৩ কোটি) পুকুরে ছাড়েন, যা এখন পোনাতে পরিণত হয়েছে। পোনাগুলোর দ্রুত বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে তিনি কয়েকদিন আগে একটি সেমিনারে অংশ নেন।

সেমিনারে একমি কোম্পানির একজন ডাক্তারের পরামর্শে ‘এ মেকটিন ভেট’ নামের একটি ওরাল সলিউশন এবং ‘টিম-এক’ নামক একটি ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি তার খামারে এসে ওষুধ সরবরাহ করেন।

গত সোমবার দুপুরে ওষুধ প্রয়োগের পর সন্ধ্যা থেকেই মাছ মারা শুরু হয়। পরে বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানানো হলে মঙ্গলবার ডাক্তার আশরাফুল ইসলাম সিপন ও কোম্পানির রিপ্রেজেনটেটিভ শাহীন এসে অক্সিজেন ও স্যালাইন প্রয়োগ করেন। তবে তাতেও মাছ মারা বন্ধ হয়নি।

আব্দুল হামিদ বলেন, “আমার সব মাছ মরে শেষ হয়ে গেছে। পুকুরে মাছ মরে ভেসে উঠছে। পচা গন্ধে আশপাশে থাকা দায়। এটা পরিষ্কার করে পুনরায় মাছ চাষ করাও এখন অসম্ভব। আমার স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে।”

একমি কোম্পানির ডাক্তার আশরাফুল ইসলাম সিপন বলেন, “আমি বলেছিলাম দুটি ওষুধ দুই দিনে প্রয়োগ করতে। কিন্তু রিপ্রেজেনটেটিভ ভুল করে এক দিনেই প্রয়োগ করায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এটি তার ভুল।”

এ বিষয়ে কোম্পানির রিপ্রেজেনটেটিভ শাহীন বলেন, “ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ীই ওষুধ দিয়েছি। মাছ মারা গেলে আমি কী করতে পারি?”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রীপুর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা কামরুল হাসান বলেন, “প্রাণিসম্পদের ওষুধ মাছের জন্য উপযোগী নয়। এ ধরনের ওষুধ প্রয়োগ করা ঠিক হয়নি। ওষুধটির মৎস্য অধিদপ্তরের অনুমোদন আছে কি না, সেটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এসব বিষয়ে মৎস্য চাষিদের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *