স্টাফ রিপোর্টার:
বিপজ্জনক পরিস্থিতিতেও সার্জেন্ট তরিকুল ইসলাম ধৈর্য হারাননি। তিনি সাহসিকতার সঙ্গে দুর্বৃত্তদের ধাওয়া করে তাদের কাছ থেকে গুলি এবং পিস্তল উদ্ধার করেন। এছাড়া উদ্ধারকৃত মোটরসাইকেলও তার তৎপরতায় জব্দ হয়। এ ঘটনা প্রমাণ করে, একজন ন্যায়পরায়ণ ও দায়িত্ববোধসম্পন্ন পুলিশ কর্মকর্তা বিপজ্জনক পরিস্থিতিতেও জনগণের নিরাপত্তা রক্ষায় নিজের জীবন বাজি রাখতে পারেন।
পুলিশ সার্জেন্ট তরিকুল ইসলামের দায়িত্বের বাইরে থাকা সত্ত্বেও নিজের জীবন বাজি রেখে সন্ত্রাসীদের ধরা দিয়েছেন। তার এই সাহসিকতা ও দায়বদ্ধতার জন্য আশা করা হচ্ছে, সরকার তাকে যথাযথভাবে সম্মানিত করবে।
ঢাকার সায়েদাবাদ রেলগেট এলাকায় গত মঙ্গলবার দুপুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিশেষ অভিযানে ঘটে এক চমকপ্রদ ঘটনা। ওয়ারী থানাধীন স্বামীবাগ এলাকায় অভিযান চলাকালীন অজ্ঞাতনামা তিন থেকে চারজন দুষ্কৃতকারী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমানকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং দ্রুত পলায়ন করে। এই ঘটনায় পরবর্তীতে ৫ রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ওইদিনই ওয়ারী থানায় মামলা দায়ের করে। মামলা নং-০২, তারিখ-০২/০৩/২০২৬, ধারাসমূহ: 186/332/333/353/307/34 দ্য পেনাল কোড, ১৮৬০ অনুযায়ী রুজু হয়।
ঘটনার সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওয়ারী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুষ্কৃতকারীদের পলানোর রাস্তায় অনুসরণ করে। পুলিশের ধাওয়ায় একাধিক অস্ত্র ফেলে দুষ্কৃতকারীরা পালিয়ে যায়। উদ্ধার অভিযানে ৩২ বোর রিভলবার একটি এবং ৪ রাউন্ড গুলি ভর্তি উদ্ধার করা হয়। পরে গোপন সূত্রের মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী উদ্ধার করা হয়: ১টি ৯এমএম পিস্তল, ২টি ম্যাগজিনসহ ১৬ রাউন্ড গুলি।
পৃথক অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে আরেকজন আসামীকে গ্রেফতার করা হয় এবং তার হেফাজত থেকে ৭.৬৫ পিস্তলসহ ৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এছাড়া উদ্ধারকৃত আলামতের মধ্যে ১টি মোটরসাইকেল অন্তর্ভুক্ত। এসব সংক্রান্তে ওয়ারী থানায় দুটি মামলা রুজু এবং একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
১. সৈয়দ জিসান আহমেদ (২৯), পিতা: মৃত সৈয়দ শাহজাহান আহমেদ লেন্সার কাইয়্যুম, মাতা: সৈয়দা খাইরুন্নেসা রোমা, সাং-৫৪ আরামবাগ, থানা-মতিঝিল, ডিএমপি, ঢাকা।
২. সৈয়দ হাসিবুল হাসান পিয়াস (২২), পিতা: সৈয়দ নাসির উদ্দিন, মাতা: লাকী আক্তার, সাং-শ্রীপুর, থানা-বিজয়নগর, জেলা-ব্রাহ্মানবাড়িয়া, বর্তমান ঠিকানা-উত্তর মুগ্ধাপাড়া, জান্নাতবাগ, থানা-মুগ্ধা, ডিএমপি, ঢাকা।
৩. ওমর ফারুক সায়েম (২১), পিতা: মৃত মোঃ বাদল, মাতা: শাহানা বেগম, সাং- ৮৭/১২, আর.কে মিশন রোড, থানা-ওয়ারী, ডিএমপি, ঢাকা।
৪. সোলায়মান হোসেন চৌধুরী (২৫), পিতা: ইকবাল হোসেন চৌধুরী, সাং-১২/১ বক্স কালভাট রোড, আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা।
ঘটনার সময় ঢাকা সদরঘাট বাস টার্মিনাল এলাকার চেকপোষ্টে ডিউটি পালন করছিলেন পুলিশ সার্জেন্ট মোঃ তারিকুল ইসলাম। দুপুর ১২:২০ মিনিটে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের গতিরোধের সময় দুষ্কৃতকারীরা আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর উপর গুলি চালায়। মুহূর্তে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, সাধারণ জনগণ নিরাপত্তার জন্য ছুটোছুটি শুরু করে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের এএসপি/এসি আরাফাত সানাপুল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অস্ত্র জব্দ করেন। পরবর্তীতে এসি, এডিসি এবং ডিসি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করেন।
ঘটনাটি দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সাহস, পেশাদারিত্ব এবং নিষ্ঠার এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে রেকর্ডে থাকবে। সার্জেন্ট তারিকুল ইসলামের তৎপরতা, সততা এবং আত্মত্যাগ যেন সকল আইনপ্রণালির সদস্যদের জন্য অনুকরণীয়।
এই অভিযানের মাধ্যমে মোট ৩টি ধরনের অস্ত্র, ২৩ রাউন্ড গুলি, ৫ রাউন্ড খোসা এবং ১টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত চার আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতের মাধ্যমে প্রেরণ প্রক্রিয়াধীন।
রাষ্ট্র ও সমাজের সুরক্ষায় এমন সাহসী কর্মকর্তা দেশের জন্য অনন্য সম্পদ। এই ধরনের সাহসিকতার জন্য সার্জেন্ট তরিকুল ইসলামকে প্রাপ্য সম্মান ও পদক প্রদানের আহ্বান জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, আহত পরিদর্শক মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান বর্তমানে চিকিৎসাধীন। তার জীবননাশের ঘটনাটি প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে সাহসী পুলিশ সদস্যদের তৎপরতায়।