মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থানে রয়েছে র্যাব-১১। সন্ত্রাস, মাদক ও কিশোর গ্যাং দমনে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন মাসদাইর এলাকায় পরিচালিত চিরুনি অভিযানে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র, মাদকদ্রব্য ও নগদ অর্থসহ ১৩ জনকে আটক করা হয়েছে।
র্যাব জানায়, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বাহিনীটি দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে র্যাব-১১ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের মাসদাইর এলাকা দীর্ঘদিন ধরে মাদক ও সন্ত্রাসী চক্রের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছিল বলে জানায় র্যাব। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৫ মে ২০২৬ তারিখে প্রথমে তথ্য সংগ্রহে গেলে সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে র্যাব সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তিনজন র্যাব সদস্য আহত হন।
এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে একই দিন সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিট থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত পরিচালিত সাঁড়াশি অভিযানে চক্রটির ১৩ জন সক্রিয় সদস্যকে আটক করা হয়।
অভিযানে উদ্ধার করা হয়—
- ৬ রাউন্ড পিস্তলের গুলি
- ১০টি ছুরি-চাকু
- ৭টি চাইনিজ কুড়াল
- ২টি রামদা
- ৩টি চাপাতি
- ৪টি সিসি ক্যামেরা
- ১টি ড্রোন
- নগদ ১১ লাখ ৬৪ হাজার ৫০০ টাকা
- ২৩৫ কেজি গাঁজা
- ১১,০০০ পিস ইয়াবা
আটককৃতরা হলেন— মো. সোহেল রানা (৪০), মো. আব্দুর রাজ্জাক (৪০), জোবায়ের হোসেন (২২), মো. শামিম আহম্মদ (২২), মিঠুন (৩৪), মো. ইমন প্রধান (২৬), মো. আকাশ (৩০), মো. রুবেল (৩৭), মো. আরাফাত হোসেন (২৮), মো. সুজন (৩২), মো. হৃদয় মিয়া (৩২), মো. টুটুল খান (৩৮) এবং মো. রেজাউল করিম (৪৮)।
র্যাব-১১ জানিয়েছে, আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানায় হস্তান্তর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
সংস্থাটি আরও জানায়, মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।