সরাইলে মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় হামলার অভিযোগ, আহত ব্যক্তির স্ত্রীর মামলা

স্টাফ রিপোর্টার
(ব্রাহ্মণবাড়িয়া)

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার
সরাইল উপজেলার পাকশিমুল ইউনিয়নের বড়ইচাড়া গ্রামে কথিত মাদক (ইয়াবা) ব্যবসার প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে মো. সোহু মিয়া নামে এক ব্যক্তির ওপর সশস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় গুরুতর আহত সোহু মিয়াকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় তার স্ত্রী ময়না বেগম বাদী হয়ে সরাইল থানায় ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বড়ইচাড়া গ্রামের চকবাজার এলাকায় একটি চায়ের দোকানকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা কেনাবেচা চলছিল বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। অভিযোগ অনুযায়ী, রিপন মিয়া, হেলাল মিয়া, মিলন মিয়া, মোমেন মিয়াসহ কয়েকজন মিলে একটি চক্র গড়ে তুলে স্থানীয় ও আশপাশের এলাকার যুবকদের কাছে ইয়াবা বিক্রি করতেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সম্প্রতি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি মো. আজগর আলী মাস্টার, পাকশিমুল ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শওকত মিয়া, সহ-সভাপতি মন্জু মিয়া এবং সোহু মিয়াসহ কয়েকজন ওই কথিত মাদক ব্যবসার বিরোধিতা করেন এবং অভিযুক্তদের এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। এরপর থেকেই তাদের সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরোধ সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৪ জুন সন্ধ্যা প্রায় ৬টার দিকে চকবাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওত পেতে থাকা কয়েকজন সোহু মিয়ার ওপর দেশীয় অস্ত্র, দা ও ছুরি নিয়ে হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ঘটনার দুই দিন পর, ২৬ জুন আহত সোহু মিয়ার স্ত্রী ময়না বেগম সরাইল থানায় ৮ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলার নম্বর-৩৮।
এ বিষয়ে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, “ঘটনার অভিযোগ পেয়ে মামলা নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা হামলার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *