আবদুল আজিজ:
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ের উদ্যোগে এবং ব্র্যাক–জলবায়ু পরিবর্তন ও স্বাস্থ্য কর্মসূচির সার্বিক সহযোগিতায় জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি মোকাবিলা ও প্রতিরোধ বিষয়ক সমাপনী সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১৮ ফেব্রুয়ারি বুধবার সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হলরুমে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং ব্র্যাকের ফিল্ড অর্গানাইজার রাসেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার খোন্দকার মাহমুদুল হাসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতকানিয়া উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার ইফফাত আরা তন্দ্রা এবং সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী সার্জন ডাক্তার মোহাম্মদ সাদত ইসলাম মিরাজ। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন সাতকানিয়া স্যানিটারি অফিসার মোহাম্মদ সরওয়ার, ব্র্যাকের সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার মোহাম্মদ ইব্রাহিম, সিসিএইচ অফিসার মো. শাহাজান, ব্র্যাকের ফিল্ড অর্গানাইজার সত্যপ্রিয় চাকমা, প্রোগ্রাম অ্যাসিস্ট্যান্ট নুরুল্লাহ, সাতকানিয়া উপজেলা মসজিদের খতিব মোহাম্মদ ইয়াহিয়া, সাতকানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ইলিয়াছ, পল্লী ডাক্তার প্রদীপ চক্রবর্তী, ব্র্যাকের ফিল্ড অর্গানাইজার সুমিতা রাণী সূত্রধর, ফিল্ড অর্গানাইজার রিয়াজ উদ্দিন রাসেল, সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ইন্সপেক্টর উৎপল বিশ্বাস, পরিসংখ্যানবিদ ওবায়দুর রহমান, সিনিয়র নার্স জাহেদা আক্তার, স্বাস্থ্য পরিদর্শক আব্দুল্লাহ, শিক্ষক জুনাইদ, গণ্যমান্য ব্যক্তি হেলাল উদ্দিন, স্টোর কিপার মিনহাজ আলম কাদেরী, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা শামশুদ্দিন, ইউএফপিএ শরাফত উল্লাহ ও মিডওয়াইফ সোমা বৈদ্য প্রমুখ।
উক্ত অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পরিবেশে পরিবর্তন ঘটছে এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বিভিন্ন ধরনের প্রভাব পড়ছে। আলোচনায় জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য মানুষের অনিয়মিত কর্মকাণ্ডকে দায়ী করা হয়। সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানানো হয়।
আলোচনায় বিভিন্ন কারণে সৃষ্ট বিভিন্ন রোগ সম্পর্কে বিশদভাবে আলোচনা করা হয়। তাপমাত্রাজনিত স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে হিটস্ট্রোক, হিট এক্সহসশন ও নিউমোনিয়া হতে পারে। বন্যা ও অতিবৃষ্টির কারণে ডায়রিয়া ও কলেরা দেখা দেয়। পরিবর্তিত বৃষ্টিপাতের কারণে মশাবাহিত রোগ যেমন ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া ও চিকুনগুনিয়া বৃদ্ধি পায়। খরার কারণে খাদ্য সংকট ও অপুষ্টি দেখা দেয়, বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এ সমস্যা বেশি হয়। বায়ুদূষণের কারণে হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট ও টিবি হতে পারে। মহামারির ঝুঁকির কারণে পশু ও মানুষের মধ্যে নতুন ভাইরাসের সংক্রমণ যেমন নিপাহ ভাইরাস, অ্যাভিয়ান ফ্লু, জিকা ভাইরাস ইত্যাদি দেখা দিতে পারে। মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাবের কারণে দুর্যোগ-পরবর্তী বিষণ্ণতা দেখা দেয়। লবণাক্ততার প্রভাবে প্রজনন স্বাস্থ্যে উচ্চ রক্তচাপ, পেলভিক ইনফ্ল্যামেটরি ডিজিজ, মূত্রনালির প্রদাহ, হাই রিস্ক প্রেগন্যান্সি এবং চর্মরোগের মধ্যে স্ক্যাবিস ও খোস-পাঁচড়া হতে পারে।