সারার কঠিন সময়ে পাশে ছিলাম এখন সে খোঁজও নেয়নি: ওরি

বিনোদন ডেস্ক:

বলিউড অভিনেত্রী সারা আলী খানের জীবনে ২০২০ সালে কঠিন সময় নেমে এসেছিল। অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পর মাদকসংক্রান্ত তদন্তে নাম জড়িয়েছিল তাঁর। সেই সময় সারার পাশে ছিলেন দীর্ঘদিনের বন্ধু ওরহান আওয়াতরামানি, যিনি ওরি নামে পরিচিত। তবে বন্ধুর বিপদের দিনে পাশে থাকলেও নিজের কঠিন সময়ে সারার কাছ থেকে সামান্য সহানুভূতিও পাননি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। এ অভিমান থেকেই সারা ও তাঁর মা অমৃতা সিংয়ের সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন এই ইনফ্লুয়েন্সার।

সম্প্রতি অভিনেত্রী নেহা ধুপিয়া ও অঙ্গদ বেদীর অনুষ্ঠান ‘ডাবল ডেট’-এ অতিথি হয়ে এসব কথা জানান ওরি। অনুষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাছের কোনো ব্যক্তিকে আনফলো করার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে এক মুহূর্তও দেরি না করে সারা ও তাঁর মায়ের নাম উল্লেখ করেন তিনি।

ওরি বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে খুব খোলাখুলিই বলি। সারার মা আমাকে খুব বকেছিলেন। তাই তাঁকেও অনুসরণ করা বন্ধ করে দিয়েছি।’

ছোটবেলা থেকেই সারা আলী খানের সঙ্গে বন্ধুত্ব ওরির। কলেজজীবনেও তাঁদের যোগাযোগ ছিল। প্রায় এক দশকের এই বন্ধুত্বে সারার জীবনের কঠিন সময়গুলোতে সব সময় পাশে ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। কিন্তু নিজের বিপদের দিনে অভিনেত্রীকে পাশে পাননি। সেই অভিমান থেকেই বন্ধুত্বের সম্পর্ক শেষ করার সিদ্ধান্ত নেন বলে জানান ওরি।

২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে মাদকসংক্রান্ত তদন্তের অংশ হিসেবে নারকোটিকস কন্ট্রোল ব্যুরো (এনসিবি) সারা আলী খানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছিল। সে সময় গোয়ায় ছুটি কাটাচ্ছিলেন সারা। কঠিন পরিস্থিতিতেও তাঁর পাশ ছাড়েননি বলে জানান ওরি।

তিনি বলেন, ‘আমরা তখন গোয়ায় ছিলাম। ও যখন এত বড় মামলায় জড়িয়ে পড়েছিল, আমি ওর সঙ্গে ছিলাম। কখনো ওর সঙ্গ ছাড়িনি।’

তবে পরবর্তী সময়ে নিজের জীবনের কঠিন পরিস্থিতিতে সারা আলী খানের কাছ থেকে সামান্য সহানুভূতিও পাননি বলে অভিযোগ করেন ওরি। তাঁর দাবি, একবারও ফোন করে তাঁর খোঁজ নেননি অভিনেত্রী। জীবনের এক কঠিন সময়ে সারার পাশে থাকা প্রয়োজন ছিল তাঁর, কিন্তু তখনই সারা যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।

ওরির ভাষায়, ‘এত খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলাম, অথচ একবারও ফোন করল না। একবারও জানতে চাইল না, আমি কেমন আছি।’

এ ঘটনায় গভীরভাবে আঘাত পেয়েছিলেন বলেও জানান ওরি। তিনি বলেন, সারা যখন কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন অনেকেই তাঁকে সারার সঙ্গ ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি সারার পাশাপাশি তাঁর মায়ের পাশেও দাঁড়িয়েছিলেন। অথচ নিজের প্রয়োজনের সময় তাঁদের কাউকেই পাশে পাননি।

ওরি আরও জানান, চলতি বছরের শুরুর দিকে সারা আলী খানের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছিল। সে সময় অভিনেত্রীকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, পুরোনো সম্পর্ক আর জোড়া লাগানো সম্ভব নয়। তবে এত কিছুর পরও সারা তাঁর কাছে ক্ষমা চাননি বলেও দাবি করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *