মোঃআনজার শাহ
কুমিল্লার বরুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসাদুজ্জামান রনির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে বরুড়া উপজেলা কবি পরিষদ। সংগঠনের সভাপতি মাস্টার নুরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক অ্যানী চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল এই সৌজন্য সাক্ষাতে অংশ নেয়।
সাক্ষাৎকালে বরুড়ার সাহিত্য-সংস্কৃতির চর্চা, কবি-সাহিত্যিকদের কর্মকাণ্ড, তরুণ প্রজন্মকে সৃজনশীল কাজে সম্পৃক্ত করা এবং উপজেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে আরও প্রাণবন্ত করার বিভিন্ন বিষয়ে আন্তরিক আলোচনা হয়।
এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান রনি বলেন, একটি সমাজের সামগ্রিক বিকাশে সাহিত্য ও সংস্কৃতির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কবিতা মানুষের চিন্তা, মনন ও মানবিক মূল্যবোধকে সমৃদ্ধ করে। তিনি বলেন, বরুড়ার কবি-সাহিত্যিকরা তাঁদের সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে আলোকিত করার পাশাপাশি সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা ছড়িয়ে দিতে পারেন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চাকে উৎসাহিত করার উদ্যোগকে সবসময় ইতিবাচকভাবে দেখা হবে।
তিনি আরও বলেন, তরুণ প্রজন্মকে মাদক, অসামাজিক কর্মকাণ্ড ও নেতিবাচকতা থেকে দূরে রাখতে বই, কবিতা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার কোনো বিকল্প নেই। একটি সুন্দর, মানবিক ও আলোকিত সমাজ গঠনে কবি-সাহিত্যিকদেরও অনেক দায়িত্ব রয়েছে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বরুড়াকে একটি সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক জনপদ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।সাক্ষাৎকালে কবি পরিষদের পক্ষ থেকে সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি উপজেলার কবি, সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিমনা মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানো এবং নতুন প্রজন্মকে সাহিত্যচর্চায় উৎসাহিত করার বিষয়েও মতবিনিময় হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মোয়াজ্জেম হোসেন কল্লোল। তিনি বলেন, সাহিত্য মানুষের হৃদয়কে স্পর্শ করে এবং সমাজকে আলোর পথ দেখায়। একটি এলাকার সাহিত্যিক ঐতিহ্য যত সমৃদ্ধ হয়, সেই এলাকার সাংস্কৃতিক পরিচয়ও তত শক্তিশালী হয়। তিনি বলেন, বরুড়ার কবি-সাহিত্যিকদের সৃজনশীল কর্মকাণ্ডকে আরও বিস্তৃত করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বই পড়া, কবিতা লেখা ও সাহিত্যচর্চার আগ্রহ তৈরি করা তাঁদের অন্যতম দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, তাঁরা চান বরুড়ার প্রতিটি প্রতিভাবান মানুষ তাঁর সৃজনশীলতার বিকাশের সুযোগ পান। পারস্পরিক সহযোগিতা, সৌহার্দ্য ও সুন্দর সাংস্কৃতিক পরিবেশ তৈরি করতে পারলে বরুড়া থেকে আরও অনেক কবি, সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিকর্মী জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান রনির প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা জানান। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, প্রশাসনের সহযোগিতা ও কবি-সাহিত্যিকদের সম্মিলিত উদ্যোগে বরুড়ার সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।