সিদ্ধিরগঞ্জ ভূমি অফিসে দালালের রাজত্ব: ‘দালাল ছাড়া চলে না অফিস’ স্বীকারোক্তি নায়েব দুলালের

নুরুজ্জামান সাউদ:

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে জনসেবা নয়, বরং দালালের দৌরাত্ম্যই এখন প্রধান হয়ে দাঁড়িয়েছে। খোদ সহকারী ভূমি কর্মকর্তা দুলাল চন্দ্র দেবনাথ স্বীকার করেছেন যে, দালাল ছাড়া এই ভূমি অফিস চালানো সম্ভব নয়। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকালে দাপ্তরিক এক প্রশ্নের জবাবে তার এমন বিস্ফোরক স্বীকারোক্তিতে খোদ সেবাগ্রহীতাদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও বিস্ময় সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিন চিত্র:
মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে সিদ্ধিরগঞ্জ ভূমি অফিসে গিয়ে দেখা যায়, সেবাপ্রার্থীদের দীর্ঘ লাইন। কিন্তু সাধারণ মানুষ সরাসরি কাজ করতে গেলে নানা অজুহাতে ফাইল আটকে দেওয়া হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিতর্কিত এই কর্মকর্তা দুলাল চন্দ্র দেবনাথ যোগদানের পর থেকেই একটি শক্তিশালী দালাল সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। সরাসরি আবেদন করলে ভুল ধরা হয়, কিন্তু দালালের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের ঘুষ দিলে সেই কাজই দ্রুত সম্পন্ন হয়ে যায়। নামজারি থেকে শুরু করে ভূমি সংক্রান্ত প্রতিটি কাজে দালালদের চাহিদা মাফিক অর্থ দিতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

বিতর্কিত অতীত:
অনুসন্ধানে জানা যায়, দুলাল চন্দ্র দেবনাথের অতীত রেকর্ড অত্যন্ত বিতর্কিত। এর আগে ফতুল্লার বক্তাবলী ও গোদনাইল এলাকায় দায়িত্ব পালনের সময় ঘুষ বাণিজ্য ও গ্রাহক হয়রানির দায়ে তিনি চরমভাবে সমালোচিত হন। বক্তাবলীতে তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে এলাকাবাসী তাকে ধাওয়া করে আন্দোলন পর্যন্ত করেছিলেন, যার প্রেক্ষিতে তৎকালীন কর্তৃপক্ষ তাকে সেখান থেকে সরিয়ে দিতে বাধ্য হয়। পরবর্তীতে গোদনাইল থেকেও তার বদলির খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা স্বস্তি প্রকাশ করেছিলেন। অথচ এমন একজন চিহ্নিত ‘ঘুষখোর’ কর্মকর্তাকে পুনরায় সিদ্ধিরগঞ্জে পদায়ন করায় জনমনে নানা প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে।

জনগণের দাবি:
সিদ্ধিরগঞ্জবাসীর অভিযোগ, দুলালের বিরুদ্ধে এর আগে জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর একাধিক লিখিত অভিযোগ জমা পড়লেও তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এলাকাবাসী এখন এই চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার অপসারণ এবং তার পূর্বের ও বর্তমানের সকল অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ভূমি মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসকের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।

জেলা প্রশাসকের বক্তব্য:
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবির কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “নারায়ণগঞ্জের কোনো ভূমি অফিসে দালালের ঠাঁই হবে না। কোনো কর্মকর্তা যদি দালালদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয় কিংবা তাদের সাথে যোগসাজশ রাখে, তবে সেই কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমরা সকল ভূমি অফিসকে শতভাগ দালালমুক্ত করতে বদ্ধপরিকর।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *