মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ডিএনডি লেক থেকে উদ্ধার হওয়া স্কুলছাত্র ইয়াছিন আরাফাত হত্যা মামলার রহস্য প্রায় নয় মাস পর উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় মূল অভিযুক্তসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রোববার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মোস্তফা কামাল।
তিনি জানান, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় গত ৫ মে ঢাকার ডেমরা এলাকা থেকে প্রধান অভিযুক্ত আজিম হোসাইনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিরআখড়া থেকে ফয়সাল এবং রূপগঞ্জ এলাকা থেকে নুসরাত জাহান মিমকে আটক করা হয়। এ সময় একটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে।
পিবিআই জানায়, নিহত ইয়াছিন আরাফাত নারায়ণগঞ্জ শহরের উত্তর চাষাঢ়া এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ‘ও’ লেভেলের শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০২৫ সালের ১১ আগস্ট সন্ধ্যায় মায়ের জন্য ওষুধ কিনতে বের হয়ে নিখোঁজ হন তিনি। দুই দিন পর সিদ্ধিরগঞ্জের ডিএনডি লেক থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তার মা আফরিনা নাসরিন বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, শুরুতে থানা পুলিশ মামলাটির তদন্ত করলেও হত্যার রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়নি। পরে মামলাটি পিবিআইতে হস্তান্তর করা হয়।
তদন্তে উঠে আসে, গ্রেপ্তার আজিম হোসাইনের সঙ্গে নুসরাত জাহান মিমের দাম্পত্য সম্পর্ক ছিল। পারিবারিক কলহ ও সন্দেহের কারণে তাদের সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়।
একপর্যায়ে আজিম তার স্ত্রীর মোবাইলে ইয়াছিন আরাফাতের বার্তা দেখতে পেয়ে তাকে পরকীয়ার সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করেন।
তবে তদন্তে জানা গেছে, ইয়াছিন আরাফাত আসলে মিমের ফুফাতো ভাই ছিলেন। ভুল সন্দেহ ও পারিবারিক বিরোধ থেকেই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পিবিআই।
সংস্থাটি জানিয়েছে, মামলার তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে।