সিদ্ধিরগঞ্জে পাইপগান ও কার্তুজের খোসাসহ গ্রেপ্তার ১

মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে একটি দেশীয় তৈরি লোহার পাইপগান ও একটি কার্তুজের খোসাসহ মোঃ মুরাদ (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার রাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন মদিনাবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সীর সার্বিক দিকনির্দেশনা এবং সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হকের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে অবৈধ অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার (১১ মে ২০২৬) রাত আনুমানিক ১০টা ৫০ মিনিটে মদিনাবাগ এলাকার জনৈক রাকিব প্রধানের বাড়ির পাশের তিন রাস্তার মোড়ে অভিযান চালায় পুলিশের একটি দল।

অভিযান চলাকালে সন্দেহভাজন হিসেবে মোঃ মুরাদকে আটক করা হয়। পরে তার দেহ তল্লাশি ও সঙ্গে থাকা মালামাল যাচাই করে একটি দেশীয় তৈরি লোহার পাইপগান এবং একটি কার্তুজের খোসা উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলেই উদ্ধারকৃত আলামত জব্দ তালিকার মাধ্যমে জব্দ করে পুলিশ।

গ্রেপ্তার হওয়া মোঃ মুরাদের পিতার নাম মৃত কামাল হোসেন এবং মায়ের নাম মাসুদা বেগম। তার বাড়ি সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন গোদনাইল এলাকার ২ নম্বর ঢাকেশ্বরী চেয়ারম্যান অফিস সংলগ্ন এলাকায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে তাকে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়।

পুলিশের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র পুনরুদ্ধারে জোরালো অভিযান চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে চিহ্নিত অপরাধী, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও বিভিন্ন অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের এই অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ আরও কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের এমন অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, এলাকায় অপরাধ প্রবণতা কমাতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে নিয়মিত অভিযান প্রয়োজন। একই সঙ্গে তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল ও নজরদারি আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, কোনো ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ড বা অবৈধ অস্ত্রের তথ্য থাকলে সাধারণ জনগণকে দ্রুত পুলিশকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। জনসচেতনতা ও পুলিশের যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমেই অপরাধ নিয়ন্ত্রণ আরও কার্যকর করা সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *