সিসি ক্যামেরার নজরদারিতে টাঙ্গাইলের ১০৬৩ ভোট কেন্দ্র

মোঃ মশিউর রহমান:


আসন্ন পার্লামেন্টারি নির্বাচনের প্রেক্ষিতে টাঙ্গাইল জেলার ৮টি সংসদীয় আসনে বইছে ভোটের হাওয়া। এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো প্রযুক্তির ব্যবহার। বিশেষ করে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এক হাজার ৬৩টি ভোটকেন্দ্রে সিসি (ক্লোজ সার্কিট) ক্যামেরা স্থাপনকে সাধারণ ভোটাররা স্বাগত জানিয়েছেন।

জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, টাঙ্গাইলের ৮টি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩৩ লাখ ৩৪ হাজার ৪২৭ জন। এই বিপুল সংখ্যক ভোটারদের নির্বিঘ্নভাবে ভোট দেওয়ার জন্য জেলাজুড়ে এক হাজার ৬৩টি ভোটকেন্দ্র এবং ৬ হাজার ৩৪১টি বুথ প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৬০টি কেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বা গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, আর ৯০৩টি কেন্দ্রকে সাধারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

নিয়মিত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সিসি ক্যামেরা ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভোটের দিন যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং ভোট জালিয়াতি রোধে জেলাজুড়ে মোট ২ হাজার ৩৬০টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এই আধুনিক প্রযুক্তির মূল লক্ষ্য হলো প্রতিটি বুথ ও ভোটকেন্দ্রের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা এবং ভোট কারচুপি, কেন্দ্র দখল বা যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধ করা।

ইলেকশন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে একটি কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে এই ক্যামেরাগুলোর ফুটেজ সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হবে। যদি কোনো কেন্দ্রে গোলযোগ, অনিয়ম বা শক্তির অপব্যবহার লক্ষ্য করা যায়, তবে সিসি ক্যামেরার প্রমাণের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইলেকশন কমিশন ও জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, টাঙ্গাইলের ৮টি সংসদীয় আসনে মোট ৬ হাজার ৩৪১টি ভোট কক্ষ বা বুথ রয়েছে। ভোটারদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ১৬ লাখ ৭১ হাজার ৬৩০ জন, নারী ভোটার ১৬ লাখ ৬২ হাজার ৭৭২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ২৫ জন। এই বিপুল সংখ্যক ভোটারের নিরাপত্তা ও আস্থার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সিসি ক্যামেরা অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সিসি ক্যামেরা স্থাপনের ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোকে বিশেষ প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি বুথ এবং কেন্দ্রের প্রবেশপথে ক্যামেরা বসানো হয়েছে, যা সরাসরি কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম থেকে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

স্থানীয় ভোটাররা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। সাধারণ ভোটারদের মতে, সিসি ক্যামেরার কারণে কেন্দ্র দখল বা জাল ভোটের ভয় অনেকটাই কমে যাবে। অন্যদিকে, রিটার্নিং অফিসার ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রযুক্তির এই ব্যবহার কেবল অপরাধ দমন নয়, নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধিতেও মাইলফলক হয়ে থাকবে।

টাঙ্গাইলের রিটার্নিং অফিসার শরীফা হকের কাজে সহায়তাকারী অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্ত জানিয়েছেন, সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে প্রতিটি কেন্দ্রের পরিস্থিতি কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। যদি কোনো কেন্দ্রে গোলযোগ বা অনিয়মের আভাস পাওয়া যায়, তবে সিসি ফুটেজ দেখে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে ভোট গ্রহণ স্থগিত করার মতো কঠোর সিদ্ধান্তও নেওয়া হতে পারে। প্রযুক্তির এই ব্যবহার ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে যেতে উৎসাহিত করবে। ডিজিটাল এই পাহারায় ভোটাররা নির্বিঘ্নে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে জয়ী করতে কেন্দ্রে আসবেন—এমনটাই প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *