মোঃ আনজার শাহ:
দেশের স্থাপত্য, নগর পরিকল্পনা ও আবাসন খাতকে আধুনিক এবং জনবান্ধব করে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন এবং প্রতিমন্ত্রী আহাম্মদ সোহেল মঞ্জুরের সঙ্গে স্থাপত্য অধিদপ্তরসহ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ দপ্তরগুলোর কর্মকর্তাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাণবন্ত মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১ মার্চ) দুপুর ২টায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এই সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় গণপূর্ত অধিদপ্তর, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ (এনএইচএ), নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর (ইউডিডি) এবং স্থাপত্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। নীতিনির্ধারক পর্যায়ের নেতৃত্ব এবং মাঠ পর্যায়ের বাস্তবায়নকারী কর্মকর্তারা একই মঞ্চে বসে খোলামেলা মতামত বিনিময় করায় সভাটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
মন্ত্রীর দৃপ্ত বক্তব্য
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন বলেন, স্থাপত্য অধিদপ্তর দেশের সরকারি অবকাঠামো নির্মাণ ও নকশা প্রণয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এই বিভাগের দক্ষ ও মেধাবী কর্মকর্তাদের পেশাদারিত্বকে সর্বোচ্চ কাজে লাগিয়ে দেশের স্থাপত্য খাতকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করাই বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। তিনি আরও বলেন, সরকারি উন্নয়নকাজে কোনো ধরনের অনিয়ম বা গাফিলতি বরদাশত করা হবে না। প্রতিটি প্রকল্প নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে এবং জনগণের করের অর্থের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। মন্ত্রী কর্মকর্তাদের উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা ও কর্মস্পৃহাকে উৎসাহিত করেন এবং দেশ গড়ার এই মহান কাজে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
প্রতিমন্ত্রীর অনুপ্রেরণামূলক বার্তা
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহাম্মদ সোহেল মঞ্জুর বলেন, মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারাই উন্নয়নের প্রকৃত কারিগর। তাঁদের প্রতিদিনের অভিজ্ঞতা, চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার কৌশল এবং বাস্তবমুখী পরামর্শ সঠিক নীতি প্রণয়নে অপরিহার্য ভূমিকা রাখে। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ দপ্তরগুলোর মধ্যে নিয়মিত এ ধরনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হলে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত হবে এবং উন্নয়নকাজ আরও ত্বরান্বিত হবে। প্রতিমন্ত্রী কর্মকর্তাদের আত্মবিশ্বাসী হয়ে কাজ করার পরামর্শ দেন এবং যেকোনো সমস্যায় মন্ত্রণালয় সর্বদা তাঁদের পাশে থাকবে বলে আশ্বস্ত করেন।
ভবিষ্যৎমুখী আলোচনা ও প্রস্তাবনা
সভায় চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। কর্মকর্তারা নগর পরিকল্পনার আধুনিকায়ন, সরকারি ভবন নির্মাণে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার এবং স্থাপত্যচর্চায় দেশীয় ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সমন্বয় ঘটানোর বিষয়ে উদ্ভাবনী প্রস্তাব তুলে ধরেন। মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী প্রস্তাবগুলো অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেন এবং দ্রুত বাস্তবায়নের দৃঢ় আশ্বাস প্রদান করেন।
সভা শেষে কর্মকর্তারা জানান, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে এই সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ তাঁদের কাজের প্রতি আগ্রহ ও দায়িত্ববোধ আরও বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই মতবিনিময় সভা গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি সমন্বিত, দক্ষ ও জনবান্ধব প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলার পথে একটি ইতিবাচক মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। দেশের আবাসন সংকট নিরসন, টেকসই নগর উন্নয়ন এবং মানসম্পন্ন সরকারি অবকাঠামো নির্মাণে এই উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে সবাই আশাবাদী।