আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে বিকল্প নৌরুটের ভৌগোলিক অবস্থান নির্ধারণে ওমানের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে ইরান। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা কূটনৈতিক আলোচনার পর দুই দেশ এখন আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ লক্ষ্যে যৌথ ঘোষণার চূড়ান্ত খসড়া তৈরির কাজ চলছে।
তেহরান জানিয়েছে, পুরো আলোচনা ছিল সম্পূর্ণ দ্বিপাক্ষিক এবং এতে কোনো তৃতীয় পক্ষকে সম্পৃক্ত করা হয়নি। তবে ইরানের দাবি, বিকল্প নৌপথ চালুর বিষয়ে সমঝোতা হলেও হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে বিদ্যমান নিরাপত্তা সংকট বা আঞ্চলিক উত্তেজনা তাৎক্ষণিকভাবে কমবে না।
ইরানি কর্মকর্তাদের ভাষ্য, প্রণালিতে অস্থিতিশীলতার প্রধান কারণ হলো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি এবং ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত নৌ অবরোধ। ফলে প্রশাসনিক সমঝোতা হলেও সংকটের মূল কারণ এখনো বহাল রয়েছে বলে তাদের দাবি।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু তথ্য প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের অবস্থান হলো, হরমুজ প্রণালিতে নতুন বা অস্থায়ী কোনো নৌপথ ব্যবহারের ক্ষেত্রে ইরানের একক নিয়ন্ত্রণ, অনুমোদন বা অতিরিক্ত ফি আরোপের সুযোগ থাকা উচিত নয়। এ বিষয়ে মার্কিন প্রশাসন স্পষ্ট আপত্তি জানিয়েছে।
এদিকে দায়িত্ব গ্রহণের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে দেওয়া ভাষণে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ইরানের সামরিক কমান্ডার, বিজ্ঞানী ও কৌশলগত স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে দেশটির সার্বভৌমত্ব ও প্রযুক্তিগত অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ওমানের মধ্যস্থতায় বিকল্প নৌপথ চালুর উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক বিরোধ এখনো অব্যাহত। তাই এই সমঝোতাকে আপাতত অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি সংকটের স্থায়ী সমাধান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।