মোঃআনজার শাহ:-
দেশীয় ফলের উৎপাদন বৃদ্ধি, হারিয়ে যেতে বসা দেশীয় ফলের ঐতিহ্য সংরক্ষণ, কৃষকদের ফলচাষে উদ্বুদ্ধ করা এবং পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে মঙ্গলবার (৩০ জুন ২০২৬) বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে দেশীয় ফলজ মেলা-২০২৬।
মেলার উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বরুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান রনি। এ সময় উপজেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কৃষক ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে আসাদুজ্জামান রনি বলেন, দেশীয় ফল আমাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও পুষ্টির অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রতিটি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পতিত জমিতে ফলজ গাছ রোপণের মাধ্যমে সবুজ পরিবেশ গড়ে তোলার পাশাপাশি পুষ্টির চাহিদা পূরণ ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ফলচাষে আরও আগ্রহী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকারের কৃষিবান্ধব উদ্যোগ বাস্তবায়নে কৃষি বিভাগ ও কৃষকদের সমন্বিত প্রচেষ্টাই নিরাপদ খাদ্য ও টেকসই উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হতে পারে।
বরুড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য হলো দেশীয় ফলের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে আবারও মানুষের দোরগোড়ায় ফিরিয়ে আনা। একসময় আমাদের গ্রামবাংলা নানা ধরনের দেশীয় ফলে সমৃদ্ধ ছিল। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে বিদেশি ফলের প্রতি ঝোঁক বাড়ায় অনেক দেশীয় ফল আজ বিলুপ্তির পথে। আমরা চাই, কৃষকরা আবারও দেশীয় ফল চাষে ব্যাপকভাবে আগ্রহী হোন।”
তিনি আরও বলেন, দেশীয় ফলের উৎপাদন বাড়লে বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে, ফলে সাধারণ মানুষ তুলনামূলক কম দামে নিরাপদ ও পুষ্টিকর ফল কিনতে পারবেন। অতীতে উৎপাদন কম হওয়ায় বাজারে ফলের দাম বেশি ছিল, তবে চলতি বছর উৎপাদন কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এই ধারা অব্যাহত রাখতে কৃষি বিভাগ কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও সার্বক্ষণিক পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি জানান।
কৃষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশীয় ফল শুধু অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক নয়, বরং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করারও গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। প্রতিটি কৃষক নিজ নিজ জমিতে দেশীয় ফলের বাগান গড়ে তুললে একদিকে আয় বাড়বে, অন্যদিকে দেশও পুষ্টিতে আরও সমৃদ্ধ হবে।
মেলায় বিভিন্ন স্টলে আম, কাঁঠাল, লিচু, জাম, পেয়ারা, সফেদা, করমচা, বিলিম্বি, জলপাই, আমড়া, কুল, লটকনসহ নানা প্রজাতির দেশীয় ফল, উন্নত জাতের চারা এবং আধুনিক ফলচাষ প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হয়। দর্শনার্থীরা স্টল ঘুরে ফলচাষ বিষয়ে কৃষি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ নেন।
উপস্থিত অতিথিরা মন্তব্য করেন, দেশীয় ফলের উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষকদের আর্থিক স্বাবলম্বিতা অর্জন এবং জনগণের পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি হারিয়ে যেতে বসা দেশীয় ফলের ঐতিহ্য সংরক্ষণেও এই মেলা নতুন প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।