মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী, ব্যুরো চিফ:
নারায়ণগঞ্জ জেলার ইতিহাসে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে জেলা প্রশাসনের রাজস্ব বিভাগ। মাত্র ১১২ টাকার আবেদন ফিতে কোনো প্রকার অনিয়ম, জটিলতা বা আর্থিক লেনদেন ছাড়াই স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে ৭ ক্যাটাগরির ১৪টি পদের নিয়োগ প্রক্রিয়া। সোমবার (৩ নভেম্বর ২০২৫) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বিজয়ী প্রার্থীদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন।
গত ২৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয় এসব পদের লিখিত পরীক্ষা, যেখানে মোট ১ হাজার ২৩৩ জন প্রার্থী অংশগ্রহণ করেন। একই দিন বিকেলেই লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়, যা প্রশাসনিক দক্ষতার নতুন রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ২৮ অক্টোবর সম্পন্ন হয় মৌখিক পরীক্ষা, এবং বহুল প্রতীক্ষিত গোয়েন্দা প্রতিবেদন পাওয়া যায় ২ নভেম্বর। এর পরদিনই নিয়োগপত্র বিতরণ করা হয়।
স্বচ্ছতা ও ন্যায়ভিত্তিক নিয়োগে সন্তুষ্ট নির্বাচিত প্রার্থীরা
আড়াইহাজারের দয়াকান্দা এলাকার নবনিযুক্ত কর্মচারী হাবিব উল্লাহ বলেন,
“কোনো রকম ঝামেলা বা অতিরিক্ত অর্থ ছাড়াই কাজটি সম্পন্ন হয়েছে। স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া দেখতে পেরে আমি অভিভূত। যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষ সরকারি চাকরিতে আস্থা ফিরে পাবে।”
একইভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত জুবাইদা মারুফা জানান,
“সাম্প্রতিককালে সরকারি চাকরিতে এমন দ্রুততা ও স্বচ্ছতা আমি কখনো শুনিনি। সত্যিই, যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ সম্ভব—এতে আবারও বিশ্বাস জন্মেছে।”
“যদি-কিন্তু”র প্রচলিত ভাবনা ভেঙেছেন: ডিসি জাহিদুল ইসলাম
নিয়োগপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন,
“সরকারি চাকরিতে নিয়োগ নিয়ে ‘যদি’ ‘কিন্তু’ ধরনের নেতিবাচক ধারণা সমাজে প্রচলিত ছিল। আমরা সেই ‘যদি-কিন্তু’ মানসিকতা ভাঙতে চেয়েছি। শুরু থেকেই আমরা ঠিক করেছিলাম, ১১২ টাকাতেই নিয়োগ সম্পন্ন হবে—বিনা ব্যয়ে। সেটাই করেছি।”
তিনি আরও যোগ করেন:
“মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পদায়নের মাধ্যমে ‘জুলাই স্পিরিট’ ধরে রাখতে চেয়েছি। আমাদের দায়িত্ব ছিল শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রাখা। আমরা তা করতে পেরেছি। আশা করি নিয়োগপ্রাপ্তরা দায়িত্বশীলতা ও সেবার মনোভাব নিয়ে কাজ করবেন।”
দ্রুততার সঙ্গে স্বচ্ছ নিয়োগে প্রশংসার ঝড়
স্থানীয় প্রশাসনিক স্তরে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পরীক্ষার ফলাফল ও নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মাঝেও প্রশংসার ঝড় উঠেছে। প্রশাসনিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের নিয়োগ পদ্ধতি সারা দেশের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতার মডেল হয়ে উঠতে পারে।
জনমতও বলছে, “যেখানে লাখ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে চাকরি পাওয়ার প্রথা ছিল, সেখানে মাত্র ১১২ টাকায় স্বচ্ছ ও দ্রুত নিয়োগ সম্ভব হয়েছে—এটি এক যুগান্তকারী দৃষ্টান্ত।”
নিয়োগপ্রাপ্তদের উদ্দেশে শুভেচ্ছা বার্তা
নিয়োগ অনুষ্ঠানের শেষে জেলা প্রশাসক, অন্যান্য কর্মকর্তাসহ উপস্থিতিরা নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানান এবং দেশ ও জেলার সেবা প্রদানের জন্য সর্বোচ্চ দায়বদ্ধতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।