স্বাধীন স্পোর্টস ডেস্ক:
জিম্বাবুয়ের লেগস্পিনার গ্রায়েম ক্রেমার দীর্ঘ বিরতির পর আবারও পেশাদার ক্রিকেটে ফিরেছেন এবং মাঠে ফিরে তাকাতে হতো দর্শকদের চোখ চমকে দিয়েছেন। ২০০৫ সালে তার ক্রিকেট ক্যারিয়ার শুরু হলেও ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে পেশাদার ক্রিকেট থেকে অবসর নেন। সেই সময় থেকে দুবাইতে বসবাস করছিলেন ক্রেমার, যেখানে তার স্ত্রী এমিরেটস এয়ারলাইন্সে কাজ করতেন এবং তিনি নিজে সন্তানদের দেখাশোনা এবং মাঝে মাঝে কোচিং করতেন।
ক্রেমারের ক্রিকেট ক্যারিয়ার উল্লেখযোগ্য: ২০১৭ সাল পর্যন্ত ১৯টি টেস্ট ম্যাচে তার ঝুলিতে ছিল ৫৭ উইকেট ও ৫৪০ রান। এছাড়া ৯৬টি ওয়ানডে এবং ২৯টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচেও খেলেছেন তিনি। সর্বশেষ ২০১৭ সালের শেষে দক্ষিণ আফ্রিকায় বক্সিং ডে টেস্টে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অংশগ্রহণের পর সীমিত ওভারের ক্রিকেট খেলেছিলেন।
চলতি বছরের শুরুতে জিম্বাবুয়ে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি সিরিজে তাকে স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও কোনো ম্যাচ খেলেননি। কিন্তু এবার ২০২৫-২৬ সিজনে লোগান কাপে মিড ওয়েস্ট রাইনোর হয়ে সাউদার্ন রকসের বিপক্ষে মাঠে ফেরেন।
প্রথম দিনে বৃষ্টির কারণে খেলা বাতিল হলেও দ্বিতীয় দিনে রকস ৪ উইকেটে ২০২ রান করে। ক্রেমার ওই দিনে ৩ উইকেট নেন। তৃতীয় দিনেও বৃষ্টি হয়, তাই মাঠে কোনো খেলা হয় না। চতুর্থ দিনে পানাশে তারুভিঙ্গা (৯৩) এবং তাফাজওয়া সিগা (১০০) রকসকে ৩৪৭ রান পর্যন্ত পৌঁছে দেন, এবং ক্রেমার বাকী ৬ উইকেট তুলে নেন।
ম্যাচ শেষে ক্রেমারের বোলিং ফিগার ছিল ৪৬.২ ওভারে ১৪৪ রান খরচ করে ৯ উইকেট। এটি জিম্বাবুয়ের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৯ উইকেট নেওয়ার দ্বিতীয় ঘটনা, তবে স্পিনার হিসেবে এটি প্রথমবার। তার এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ক্রিকেট ভক্তদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
ক্রেমারের ফেরা কেবল ব্যক্তিগত কীর্তি নয়, জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের জন্যও বড় শক্তি হিসেবে ধরা হচ্ছে। দীর্ঘ বিরতি এবং কোচিং দায়িত্বের পর মাঠে ফিরে স্পিনার হিসেবে এমন রেকর্ড গড়তে পারা তার অভিজ্ঞতা, নিয়ন্ত্রণ এবং ফিটনেসের প্রমাণ।
মিড ওয়েস্ট রাইনো দলের কোচ বলেছেন, “ক্রেমারের বোলিং আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। তার দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা দলের নতুন খেলোয়াড়দের জন্যও অনুপ্রেরণা। আমরা আশা করছি, তার এই ফর্ম আগামি ম্যাচগুলোতেও ধরে থাকবে।”
ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ক্রেমারের এই ফর্ম তার জিম্বাবুয়ে জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনাকেও জোরদার করতে পারে। লেগস্পিনার হিসেবে মাঠে তার উপস্থিতি ভবিষ্যতের প্রথম শ্রেণির ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ক্রেমারের এই কীর্তি ক্রিকেট ইতিহাসে এক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে, যেখানে দীর্ঘ বিরতির পর ফেরা একজন স্পিনার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এত বড় রেকর্ড গড়লেন।