মনিরুল ইসলাম:
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে বিষাক্ত ও অতিরিক্ত মদ্যপানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২ জন হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) এ সংখ্যা ছিল একজন। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাতে আড়াইহাজার উপজেলার ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের ডহমারুয়াদী খেজুরতলা এলাকায়।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ওই গ্রামের সিদ্দিকের ছেলে মুসা (৩৫) ঢাকায় রিকশা চালান। তিনি গত বৃহস্পতিবার বাড়িতে আসেন। শুক্রবার রাতে একই গ্রামের আলকাসের ছেলে লোকমান (২২) ও মুসা অতিরিক্ত মদ পান করে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁদের শনিবার সকাল ৮টায় আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক আফসানা মিম মুসাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন এবং লোকমানের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।
যাঁরা তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন, তাঁরা জানান, অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে তাঁরা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। নিহত মুসার স্ত্রী শাহানাজ আক্তার জানান, রাতে তাঁর স্বামী বুকে ব্যথা অনুভব করার কথা জানিয়েছিলেন। তবে মুসা আসলেই মদ্যপান করে মৃত্যুবরণ করেছেন কি না, তা তিনি পরিষ্কারভাবে জানাননি। তবে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক জানিয়েছেন, ঘটনাটি বিষক্রিয়াজনিত।
এদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন লোকমান শনিবার রাতে মারা গেলে এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় ২ জনে।
বিষাক্ত মদ্যপানে মুসার মৃত্যুর সংবাদে শনিবার পুলিশ ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলে এবং পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠাতে চাইলে ওই গ্রামের মৃত কানা মজিবুরের ছেলে জহিরুল সাংবাদিক ও পুলিশের বিরুদ্ধে থানার সামনে এসে মব সৃষ্টি করে তাঁর সহযোগীদের নিয়ে মুসার লাশ বিনা ময়নাতদন্তে দাফন করে ফেলেন। এ সময় জহিরুল পুলিশ ও সাংবাদিকদের নানা উচ্ছৃঙ্খল কথাবার্তা বলেন এবং ফেসবুক লাইভ করেন। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, উক্ত জহিরুলই নিহতদের বিষাক্ত মদ সরবরাহ করেছেন।
আড়াইহাজার থানার ওসি মো. সবজেল হোসেন জানান, সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তারা ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করছে। লোকমানের লাশের ময়নাতদন্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, কে বা কারা বিষাক্ত মদ সরবরাহ করেছে, সে ব্যাপারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত করে জড়িতদের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।