আষাড়িয়ার চর ব্রিজে লেন খুলে দেওয়া হয়েছে, কমছে ৪০ কিমির যানজট

 নারায়ণগঞ্জ,জেলা প্রতিনিধি:

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের আষাড়িয়ার চর ব্রিজ এলাকায় সংস্কারকাজের জন্য বন্ধ থাকা লেন খুলে দেওয়ার পর ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে দীর্ঘ যানজট। শনিবার সকালে লেনটি খুলে দেওয়ায় ব্রিজ এলাকায় এখন দুই লেনেই যানবাহন চলাচল করছে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে আটকে থাকা যানবাহনের চাপ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগবে বলে জানিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ।

শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিউল আলম।

হাইওয়ে পুলিশ জানায়, আষাড়িয়ার চর ব্রিজ এলাকায় সংস্কারকাজের কারণে শুক্রবার ভোর থেকে একটি লেন বন্ধ রাখা হয়েছিল। অপর লেন দিয়ে যানবাহন চলাচল করলেও অতিরিক্ত চাপের কারণে ধীরে ধীরে মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে যানজট তৈরি হয়। শনিবার সকালে বন্ধ থাকা লেনটি খুলে দেওয়ার পর ব্রিজ এলাকায় দুই লেন দিয়েই যানবাহন চলাচল করছে।

তবে দীর্ঘ সময় ধরে মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে আটকে থাকা যানবাহনের সারি পুরোপুরি সরতে আরও সময় লাগবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

৪০ কিলোমিটারজুড়ে তীব্র যানজট

শুক্রবার দিনভর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের আষাড়িয়ার চর ব্রিজ থেকে কুমিল্লার ইলিয়টগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাকায় থেমে থেমে যানজট ছিল। বিকেলের পর পরিস্থিতি আরও তীব্র হয়। রাতে যানজট ভয়াবহ আকার ধারণ করে। কোনো কোনো যাত্রী প্রায় পাঁচ ঘণ্টা একই জায়গায় আটকে থাকার কথা জানিয়েছেন।

শুক্রবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে আষাড়িয়ার চর থেকে দাউদকান্দি হয়ে ইলিয়টগঞ্জ পর্যন্ত মহাসড়কের দীর্ঘ অংশে তীব্র যানজট দেখা যায়। দীর্ঘ সময় যানবাহন আটকে থাকায় চালক ও যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।

হাইওয়ে পুলিশ জানায়, বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘ সময় আটকে থাকা চালকদের অনেকে গাড়ির ভেতর ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। পরে যান চলাচল শুরু হলেও চালকদের কেউ কেউ ঘুমিয়ে থাকায় গাড়ির সারি দ্রুত সরানো সম্ভব হয়নি। ফলে যানজট স্বাভাবিক হতে বাড়তি সময় লাগছে।

কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ওসি শফিউল আলম বলেন, সকালে আষাড়িয়ার চর ব্রিজের বন্ধ থাকা লেনটি খুলে দেওয়া হয়েছে। এখন দুই লেন দিয়েই যানবাহন চলছে। ধীরে ধীরে যানজট কমছে।

তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় যানবাহন আটকে থাকায় বিভিন্ন স্থানে চালকেরা ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। এ কারণে সব জায়গায় একসঙ্গে যান চলাচল শুরু না হওয়ায় পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগছে।

অতিবৃষ্টিতে সৃষ্টি হয়েছিল গর্ত

সড়ক ও জনপথ বিভাগের নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ের বিভাগীয় প্রকৌশলী আল রাজী জানান, অতিবৃষ্টির কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্ত তৈরি হয়। এতে যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি দেখা দেয়। বিশেষ করে আষাড়িয়ার চর এলাকায় মহাসড়কের ঢাকামুখী অংশে বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারকাজ শুরু করা হয়।

তিনি জানান, আষাড়িয়ার চর এলাকায় মহাসড়কের প্রায় পাঁচ মিটার অংশের গর্তে মাইক্রোকংক্রিট ঢালাই দেওয়া হয়েছে। ঢালাই শক্ত হয়ে যান চলাচলের উপযোগী হতে কমপক্ষে ২৪ ঘণ্টা সময় প্রয়োজন ছিল। এ কারণে শুক্রবার ভোর থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত একটি লেন বন্ধ রেখে অপর লেন দিয়ে যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়।

সংস্কারকাজের জন্য একটি লেন বন্ধ থাকা এবং একই সময়ে মহাসড়কে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ থাকায় যানজট তীব্র আকার ধারণ করে। পরে তা আষাড়িয়ার চর থেকে কুমিল্লার ইলিয়টগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

শনিবার সকালে সংস্কারকাজের জন্য বন্ধ থাকা লেনের ঢালাই শক্ত হয়ে যাওয়ার পর সেটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। ফলে আষাড়িয়ার চর ব্রিজ এলাকায় এখন দুই লেনেই যানবাহন চলাচল করছে। তবে প্রায় ৪০ কিলোমিটারজুড়ে তৈরি হওয়া যানবাহনের দীর্ঘ সারি পুরোপুরি সরতে আরও কিছু সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *