ইংল্যান্ডে ছয় মাসের জন্য গাড়ি চালানো নিষিদ্ধ সালাহর

স্পোর্টস ডেস্ক:

ইংল্যান্ডে ছয় মাসের জন্য গাড়ি চালানোর নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছেন লিভারপুলের সাবেক ফুটবলার ও মিসরের অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহ। চেশায়ারের উইল্মসলো এলাকায় তার নামে নিবন্ধিত রোলস-রয়েস নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম করার ঘটনায় এ শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

আদালতের নথি অনুযায়ী, গত ২৭ মার্চ ৩০ মাইল (প্রায় ৪৮ কিলোমিটার) গতিসীমার একটি সড়কে সালাহর রোলস-রয়েস ঘণ্টায় ৩৬ মাইল (প্রায় ৫৮ কিলোমিটার) গতিতে চলতে ধরা পড়ে। তবে গাড়িটি কে চালাচ্ছিলেন, সে বিষয়ে পুলিশকে কোনো তথ্য দেননি ৩৪ বছর বয়সী এই ফুটবলার।

এ ঘটনায় চেশায়ার পুলিশ তাকে একটি নোটিশ পাঠালেও সালাহ তার জবাব দেননি। এমনকি অভিযোগের বিষয়ে আদালতেও কোনো বক্তব্য বা জবাব জমা দেননি তিনি।

ওয়ারিংটন কম্বাইন্ড কোর্টে ‘সিঙ্গেল জাস্টিস প্রোসিডিউর’-এর আওতায় মামলাটির শুনানি হয়। চালকের পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য না দেওয়ার অভিযোগে আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করেন। একই সঙ্গে ছয় মাসের জন্য গাড়ি চালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং ১ হাজার ৪৪ পাউন্ড জরিমানা করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গতিসীমা লঙ্ঘনের ঘটনায় জড়িত গাড়িটি ছিল সালাহর নামে নিবন্ধিত রোলস-রয়েস স্পেক্টর। বিলাসবহুল এই গাড়িটির মূল্য ৪ লাখ ৬৬ হাজার ইউরোরও বেশি, যা প্রায় ৫ লাখ ৪৪ হাজার ডলারের সমান।

এ ছাড়া ইংল্যান্ডে সালাহর প্রায় ৫০ লাখ ইউরো মূল্যের বাড়িতে পাঠানো দুটি নোটিশেরও কোনো জবাব দেননি বলে জানা গেছে।

সালাহর লিভারপুল ছাড়ার ঘোষণা দেওয়ার মাত্র দুই দিন পর ঘটে এ ঘটনা। গত ২৪ মার্চ লিভারপুল ক্লাব সালাহর বিদায়ের ঘোষণা দিয়ে জানায়, তিনি ক্লাবটির ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

লিভারপুলের হয়ে ৪৪২ ম্যাচে ২৫৭ গোল করে ক্লাব ছাড়েন সালাহ। ২০২৫-২৬ মৌসুম শেষে তিনি তুরস্কের ক্লাব ট্রাবজোনস্পরে যোগ দেন।

সম্প্রতি তুরস্কের লিগেও আলোচনায় ছিলেন মিসরীয় এই ফরোয়ার্ড। গালাতাসারাইয়ের বিপক্ষে ৪-০ গোলের জয়ে হ্যাটট্রিকের পাশাপাশি একটি অ্যাসিস্ট করেন তিনি। চলতি মৌসুমে তার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাত।

তুরস্কে পাড়ি জমানোর পর থেকে সালাহ ইংল্যান্ডের বাইরে অবস্থান করলেও চেশায়ারের এই মামলার কারণে আবারও আলোচনায় এসেছেন তিনি।

এর আগে ইংল্যান্ডে মোটরযান-সংক্রান্ত আরও কয়েকটি ঘটনায়ও সালাহর নাম জড়িয়েছিল। ২০২২ সালে ফেরারি এফ৮ ট্রিবিউটো চালিয়ে গতিসীমা অতিক্রম করায় তাকে জরিমানা করা হয় এবং ড্রাইভিং লাইসেন্সে তিনটি পেনাল্টি পয়েন্ট যোগ করা হয়।

এ ছাড়া ২০১৮ সালে অ্যানফিল্ডের কাছে গাড়ি চালানোর সময় তাকে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দেখা যায়। তবে ওই ঘটনায় অভিযোগ আনার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকায় পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *