সুলতান মাহমুদ:
জামালগঞ্জ উপজেলার জেলেরা ইজারাদারদের অবৈধ দমন ও ভয়-ভীতি প্রদর্শনের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই মাছ ধরতে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। উপজেলার শরীফপুর থেকে গাগলাজুর পর্যন্ত উন্মুক্ত বৌলাই নদীতে মাছ শিকার করা তাদের জীবিকার অন্যতম মাধ্যম। তবে ধর্মপাশা উপজেলার নাইন্দা বিল, মাইন্দাবিল ও কালা মাটির অংশে ইজারাদারদের দখলের কারণে জেলেরা উন্মুক্ত নদীতে মাছ ধরতেও বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন।
জেলেরা জানান, ধর্মপাশা ও জামালগঞ্জ উপজেলার উন্মুক্ত বৌলাই নদী বরাবর চিরাচরিতভাবে মাছ ধরার অধিকার থাকলেও সম্প্রতি তাজিমুল ইসলাম নামে ইজারাদার ও তার বাহিনী নদীর উন্মুক্ত অংশে জেলেদের মাছ ধরতে বাধা দিচ্ছে। স্থানীয় জেলে আবু সালেক বলেন, “নদীর এই অংশ সম্পূর্ণ উন্মুক্ত। তাজিমুল ইসলাম তার লিজ কৃত বদ্ধ জলমহাল সাবলিজ হিসেবে বিক্রি করে লাঠিয়াল বাহিনী তৈরি করেছে এবং তারা উন্মুক্ত নদীর অংশেও জেলেদের বাধা দিচ্ছে। এটি একেবারেই অবৈধ।”
জেলেরা অভিযোগ করেন, উপজেলার উন্মুক্ত নদীতে মাছ ধরার জন্য বিগত বছরগুলোতে জেলা প্রশাসক টোকেন ফি প্রবর্তন করেছিলেন। সেই ফি প্রদানের মাধ্যমে সাধারণ জেলেরা নদীতে মাছ ধরতে পারতেন। কিন্তু এবার টোকেন ফি না দেওয়ার কারণে, ও বদ্ধ জলমহালের ইজারাদাররা তাদের ওপর ভয়-ভীতি প্রদর্শন করছে। আবু সালেক আরও বলেন, “এ ধরনের দমন ও বাধার কারণে গরিব মৎস্যজীবীরা চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন। এ সমস্যা সমাধানে দ্রুত প্রশাসনের পদক্ষেপের প্রয়োজন।”
জেলেদের অভিযোগ, ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (এসিল্যান্ড) সহানুভূতি ও পক্ষপাত দেখে তারা অবৈধভাবে কাজ চালাচ্ছে। জেলা প্রশাসক ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ করার পরও সমস্যার সমাধান হয়নি।
স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, যদি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়, তাহলে ধীরে ধীরে উন্মুক্ত নদীর মাছ ধরা প্রথা ক্ষুণ্ণ হবে এবং গরিব জেলেরা জীবিকার পথ হারাবে।
এ বিষয়ে ধর্মপাশা এসিল্যান্ড এবং ইজারাদারদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সফল হওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, জামালগঞ্জের বৌলাই নদী ও সংলগ্ন বিলগুলো প্রাচীনকাল থেকে স্থানীয় জেলেদের জীবিকার প্রধান উৎস। কিন্তু বর্তমানে ইজারাদারদের অবৈধ দমন ও লিজের সীমা লঙ্ঘনের কারণে জেলেরা তাদের চিরাচরিত অধিকারও কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারছেন না।
স্থানীয় মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের দাবি, “জেলেদের জীবন জীবিকা রক্ষার জন্য প্রশাসনকে দ্রুত হস্তক্ষেপ করতে হবে। না হলে গরিব জেলেরা অকারণে দমন ও ভয়-ভীতির শিকার হতে থাকবে।”