স্বাধীন সংবাদ আন্তর্জাতিক:
ইরানকে কোনো অবস্থাতেই পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হতে দেওয়া হবে না বলে আবারও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেছেন, পরিস্থিতি প্রয়োজন হলে ইসরাইল পুনরায় ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালাতে দ্বিধা করবে না। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরানের পরমাণু বোমা তৈরির হুমকি থেকে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে ইসরাইল।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) ইসরাইলের টেলিভিশন চ্যানেল ১৪-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন নেতানিয়াহু। তুরস্কভিত্তিক সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, “আমরা ইরানের পরমাণু বোমার হুমকি থেকে নিজেদের রক্ষা করেছি। তবে প্রয়োজন দেখা দিলে আবারও পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত আছি। ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে দেওয়া হবে না।”
তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইসরাইল প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করবে না।
নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য এমন এক সময় এসেছে, যখন সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে একটি সমঝোতা স্মারক কার্যকর হয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া ওই সমঝোতা ১৮ জুন থেকে কার্যকর হয়। এতে ইলেকট্রনিকভাবে স্বাক্ষর করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সমঝোতা স্মারকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিভিন্ন ইস্যু আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের একটি কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা, ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সম্ভাবনা, পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক তদারকি, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌচলাচল পুনর্বহাল এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা কার্যকর হলে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে ইসরাইল শুরু থেকেই ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ধরনের সমঝোতার বিরোধিতা করে আসছে। দেশটির দাবি, কূটনৈতিক সমঝোতার আড়ালে ইরান তার পরমাণু কর্মসূচি এগিয়ে নিতে পারে, যা ভবিষ্যতে ইসরাইলের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
এ কারণেই ইসরাইল সরকার বারবার জানিয়ে আসছে, প্রয়োজন হলে তারা একতরফাভাবে সামরিক ব্যবস্থা নিতেও প্রস্তুত। নেতানিয়াহুর সর্বশেষ বক্তব্যেও সেই অবস্থানেরই পুনরাবৃত্তি দেখা গেছে।
অন্যদিকে ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার মতো বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে আন্তর্জাতিক আইন মেনে কর্মসূচি পরিচালনার দাবি জানিয়ে আসছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইসরাইলের এই নতুন হুঁশিয়ারি অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আবারও অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিতে পারে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা কার্যকরের পর ইসরাইলের এমন কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতে আঞ্চলিক কূটনীতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।