ইরান যুদ্ধে প্রকাশিত সংখ্যার চেয়ে বেশি মার্কিন সেনা নিহতের দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সংখ্যার চেয়ে বেশি মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে ছয় মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, পেন্টাগনের প্রকাশ্য হিসাব অনুযায়ী ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। তবে সংশ্লিষ্ট পাঁচ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রকৃত সংখ্যা অন্তত ২২ জন। আর ষষ্ঠ এক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, নিহত সেনার সংখ্যা ২৩ জন পর্যন্ত হতে পারে।

তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত হিসেবে উল্লেখ করা সব মৃত্যুই সরাসরি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলায় ঘটেনি। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা মার্কিন সামরিক সদস্যদের কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া ওই অঞ্চলে অবস্থানরত তিন মার্কিন সামরিক ঠিকাদারও মারা গেছেন বলে এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

পেন্টাগনের প্রকাশ্য ডিফেন্স ক্যাজুয়ালটি অ্যানালাইসিস সিস্টেম (ডিসিএএস)-এ শুক্রবার পর্যন্ত ইরান সংঘাতের সময় ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহতের তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে ১৪ জনের মৃত্যু ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র আওতায় দেখানো হয়েছে।

তবে ওয়াশিংটন পোস্ট-এর এই প্রতিবেদন অস্বীকার করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি প্রতিবেদনটিকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে মন্তব্য করেন। অন্যদিকে, পেন্টাগন প্রতিবেদনে উল্লিখিত সংখ্যাগত অসঙ্গতি নিয়ে সংবাদমাধ্যমটির প্রশ্নের সরাসরি জবাব দেয়নি।

এদিকে, ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়ের পরিমাণও বেড়েছে। ওয়াশিংটন পোস্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরের শুরু পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের হিসাব অনুযায়ী যুদ্ধে প্রায় ৪৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহারে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে যৌথ হামলা শুরু করে। এরপর থেকে কয়েক মাস ধরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। সংঘাতে ইরানও ব্যাপক সামরিক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে।

এদিকে ইরানের সঙ্গে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কয়েক দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। সংঘাত অবসানে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখা কিংবা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজা—দুই ধরনের সম্ভাবনাই আলোচনায় রয়েছে।

এর আগে সংঘাত শুরুর সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা চলছিল। বর্তমানে আবারও আলোচনার উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হলেও ইরান জানিয়েছে, আলোচনার আগে তাদের নির্ধারিত কিছু শর্ত মানতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *