স্টাফ রিপোর্টার:
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে আহসান হাবীবকে দায়িত্ব দেওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন, প্রশাসনিক মহল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নিয়োগ ঘোষণার পর থেকেই বিভিন্ন পক্ষ এ সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। বিশেষ করে সরকারের সংস্কার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রতিশ্রুতির সঙ্গে এ নিয়োগ কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ—তা নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।
সমালোচকদের একাংশের দাবি, আহসান হাবীব পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের অভিযোগ, ওই সময় তিনি সরকারের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি সরকারি অর্থায়নে একাধিকবার বিদেশ সফরে অংশ নিয়েছিলেন। এ কারণে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তাকে এনবিআরের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের মতে, প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাই নয়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার অতীত কর্মকাণ্ড, বিতর্ক এবং জনমনে গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। তাদের ভাষ্য, সরকার যেহেতু প্রশাসনিক সংস্কার, দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কথা বারবার বলছে, তাই গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগের ক্ষেত্রেও সেই নীতির প্রতিফলন থাকা উচিত।
বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় বিশ্বাসী বলে নিজেদের পরিচয় দেওয়া অনেক ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের বক্তব্য, যে আন্দোলনের অন্যতম দাবি ছিল প্রশাসনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং বিতর্কিত ব্যক্তিদের প্রভাবমুক্ত রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা, সেখানে অতীত ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে—এমন একজন কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত জনমনে নানা ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই লিখছেন, সরকারের উচিত এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা তুলে ধরা, যাতে জনমনে কোনো বিভ্রান্তি বা সন্দেহের সৃষ্টি না হয়। তাদের মতে, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হলে সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।
এদিকে প্রশাসনিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের মতে, একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা সমালোচনা থাকলেই তা সত্য প্রমাণিত হয় না। তারা বলছেন, নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারের নিজস্ব মূল্যায়ন, প্রশাসনিক প্রয়োজন এবং কর্মকর্তার পেশাগত যোগ্যতাও বিবেচনায় নেওয়া হয়ে থাকে। তাই কোনো সিদ্ধান্ত সম্পর্কে চূড়ান্ত মন্তব্য করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা প্রয়োজন।
তবে এখন পর্যন্ত আহসান হাবীবের নিয়োগ নিয়ে ওঠা সমালোচনা বা অভিযোগের বিষয়ে সরকার কিংবা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের রাজস্ব ব্যবস্থাপনা, অর্থনৈতিক সংস্কার এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনগণের আস্থা ধরে রাখতে হলে এ ধরনের নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট অবস্থান ও প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা তুলে ধরা জরুরি। এতে একদিকে যেমন অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক কমবে, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের বিশ্বাসও আরও সুদৃঢ় হবে।