আন্তর্জাতিক ডেস্ক ::
এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে যুক্তরাজ্যজুড়ে বড় ধরনের ফ্লাইট বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দেশটির লন্ডনের হিথ্রো, গ্যাটউইক, ম্যানচেস্টার ও বার্মিংহামসহ বিভিন্ন বিমানবন্দরে ব্যাপকভাবে ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বিত হয়। ফ্লাইট ট্র্যাকিং সংস্থা ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, দিন শেষে এক হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন হাজার হাজার যাত্রী।
ব্রিটেনের ন্যাশনাল এয়ার ট্রাফিক সার্ভিসেস (NATS) জানায়, তাদের ফ্লাইট প্রসেসিং সিস্টেমে একটি প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দেয়। সমস্যা শনাক্ত হওয়ার পর প্রকৌশলীরা জরুরি ভিত্তিতে তা সমাধানে কাজ শুরু করেন। বিকেলের দিকে ত্রুটিটি ঠিক করা হলেও এর প্রভাবে তৈরি হওয়া বিশাল জট দ্রুত কাটানো সম্ভব হয়নি। ফলে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন বিমানবন্দরে ফ্লাইট বিলম্ব ও বাতিলের ঘটনা অব্যাহত থাকে।
হিথ্রো বিমানবন্দর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বিমানবন্দরগুলোর একটি। পরিস্থিতির কারণে বিমানবন্দরটিতে একপর্যায়ে উড়োজাহাজের আগমন বন্ধ রাখতে হয়। পরে সীমিত আকারে ফ্লাইট চলাচল শুরু হলেও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের নিজ নিজ এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা জেনে নিতে পরামর্শ দেয়।
প্রযুক্তিগত ত্রুটির প্রভাব পড়ে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ, ইজিজেট, রায়ানএয়ারসহ বিভিন্ন বিমান সংস্থার কার্যক্রমে। ব্রিটিশ এয়ারওয়েজকে শতাধিক ফ্লাইট বাতিল বা অন্যত্র সরিয়ে নিতে হয়। রায়ানএয়ার জানিয়েছে, তাদের ৬৫ হাজারের বেশি যাত্রী এই বিপর্যয়ের কারণে বিলম্বের শিকার হয়েছেন। ইউরোপের অন্যান্য দেশেও এর প্রভাব পড়ে এবং যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বিভিন্ন রুটের ফ্লাইটে বিলম্ব দেখা দেয়।
যুক্তরাজ্যের প্রায় ১৫টি বিমানবন্দরে সরাসরি এই সমস্যার প্রভাব পড়ে। লন্ডনের প্রধান বিমানবন্দরগুলোর পাশাপাশি এডিনবার্গ, গ্লাসগো, বার্মিংহাম, ম্যানচেস্টারসহ বিভিন্ন বিমানবন্দরেও ফ্লাইট বিলম্ব ও বাতিলের খবর পাওয়া যায়। ব্রিটেনের বাইরে আয়ারল্যান্ড ও ইউরোপের কয়েকটি বিমানবন্দরেও এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে।
NATS জানিয়েছে, প্রযুক্তিগত ত্রুটিটি সমাধান করা হলেও স্বাভাবিক কার্যক্রম পুরোপুরি ফিরিয়ে আনতে সময় লাগবে। কারণ বাতিল ও বিলম্বিত ফ্লাইটের কারণে অনেক উড়োজাহাজ ও ক্রু নির্ধারিত অবস্থানে নেই। ফলে পরবর্তী ফ্লাইটগুলোর সময়সূচিও বিঘ্নিত হচ্ছে। বুধবারও এর প্রভাব অব্যাহত থাকার আশঙ্কা করা হয়েছে।
এদিকে, বারবার প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে যুক্তরাজ্যের বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সাম্প্রতিক এই ঘটনার পর দেশটির বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ NATS-এর কাছে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন চেয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের বিপর্যয় ঠেকাতে ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার দাবি উঠেছে।
NATS-এর প্রধান নির্বাহী মার্টিন রলফে এই ঘটনায় যাত্রীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে সমস্যার দায় স্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বিমান চলাচলের নিরাপত্তা অক্ষুণ্ন রেখেই দ্রুত স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে কাজ করা হচ্ছে।