স্টাফ রিপোর্টার:
খাদ্য অধিদপ্তরের ওপেন মার্কেট সেল (ওএমএস) কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চাল-আটা বিক্রির অভিযোগ উঠেছে কথিত বিএনপি নেতা পরিচয়ধারী মো. আমিনুর রহমানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি একাই ১৩টি ওএমএস ডিলারশিপ নিয়ন্ত্রণ করছেন এবং সরকারি নিয়ম-নীতিকে পাশ কাটিয়ে এসব ডিলারশিপ পরিচালনা করছেন।
জানা যায়, গতকাল ডি-৪-এ বিক্রয়ের দায়িত্বে ছিলেন ডিলার সানজিদা। কিন্তু দুপুর ১টার মধ্যেই তার ট্রাক চলে যায়। এরপর স্থানীয় সাংবাদিকরা ডি-৪-এর এআরওকে বিষয়টি জানালে তিনি বলেন, ‘দেখছি।’ কিছু সময় পর অভিযুক্ত আমিনুর রহমান বিষয়টি জানতে পেরে ডিলার সানজিদার ট্রাকটি পুনরায় বিক্রয়স্থলে নিয়ে আসেন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের ফোন করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং মতিঝিল শাপলা চত্বরে উপস্থিত হতে বলে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন। একপর্যায়ে ট্রাকের মাল শেষ না হওয়ার আগেই আবার ট্রাকটি চলে যায়।
অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি ভর্তুকিতে সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত চাল ও আটা প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে না পৌঁছে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন নিম্ন আয়ের মানুষ ন্যায্যমূল্যে খাদ্যপণ্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, অন্যদিকে সরকারও আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
জানা গেছে, অভিযুক্ত মো. আমিনুর রহমান (৩৯)-এর পিতার নাম দুধা ভূঞা এবং মাতার নাম শাহিদা বেগম। তার স্থায়ী ঠিকানা মিরপুরের পূর্ব আহম্মদনগর এলাকায়। বর্তমানে তিনি রাজধানীর সবুজবাগ থানাধীন পূর্ব বাসাবো এলাকার ৭/৬ নম্বর বাসায় বসবাস করেন।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তিনি ওএমএস কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। অভিযোগ রয়েছে, বরাদ্দকৃত চাল ও আটার একটি বড় অংশ নির্ধারিত বিক্রয়কেন্দ্রে না এনে পাইকারি ব্যবসায়ী ও মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে বেশি দামে বিক্রি করা হয়। ফলে ওএমএস কেন্দ্রে গিয়ে অনেক ক্রেতাই কাঙ্ক্ষিত পণ্য না পেয়ে ফিরে যান।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, একজন ব্যক্তির নামে বা নিয়ন্ত্রণে এতগুলো ডিলারশিপ পরিচালনা করা খাদ্য অধিদপ্তরের নীতিমালার পরিপন্থী। বিষয়টি তদন্ত করলে ডিলারশিপ বণ্টন, প্রকৃত মালিকানা, মনোনয়ন এবং সরকারি খাদ্যপণ্য বিতরণে অনিয়মের নানা তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেন, সরকারি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। একই সঙ্গে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে মো. আমিনুর রহমানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। খাদ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।