সাভার প্রতিনিধি:
ঢাকার সাভারে ওএমএস ডিলারের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও কালোবাজারির অভিযোগের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে তিন সাংবাদিককে চাঁদাবাজির মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে সাভারের চাঁপাইন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে পুলিশ তিন সাংবাদিককে আটক করে নিয়ে যায়।
গ্রেপ্তার হওয়া সাংবাদিকরা হলেন—দৈনিক মুক্ত খবরের সাংবাদিক আবু বক্কর সিদ্দিক, একই পত্রিকার সাংবাদিক মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু এবং দৈনিক বিজনেস ফাইলের সাংবাদিক ফেরদৌস রহমান রুপক। তাদের সঙ্গে থাকা দৈনিক একুশে সংবাদের সাংবাদিক পিন্টু শেখ ঘটনাস্থল থেকে সরে গিয়ে বিষয়টি অন্য সাংবাদিকদের জানান বলে জানা গেছে।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, সাভারের চাঁপাইন এলাকার খাদ্য অধিদপ্তরের ওএমএস ডিলার জাহাঙ্গীর দীর্ঘদিন ধরে সরকারি ব্যবস্থাপনায় সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ চাল ও আটা কালোবাজারে বিক্রি করে আসছেন—এমন অভিযোগের তথ্য পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহ করতে যান।
তথ্য সংগ্রহের সময় সাংবাদিকরা ওএমএসের চাল-আটা বিতরণ ও বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে ডিলার জাহাঙ্গীর তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ করেন তারা। সাংবাদিকরা এর প্রতিবাদ করলে ডিলারের পক্ষের লোকজন তাদের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন।
সাংবাদিকদের দাবি, বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হওয়ার পর ডিলার জাহাঙ্গীরের পক্ষ থেকে স্থানীয় কিছু লোকজনকে ব্যবহার করে তাদের বিরুদ্ধে মব সৃষ্টি করা হয়। একপর্যায়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও মারধরের ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ করেন তারা।
পরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে সাংবাদিকদেরই আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলা হয়। সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সংবাদ সংগ্রহের কারণে তাদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে পরিকল্পিতভাবে চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে ফাঁসানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চাঁপাইন এলাকায় ওএমএসের চাল ও আটা বিতরণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ রয়েছে। সরকারি মূল্যে সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ এসব পণ্য নির্ধারিত নিয়মে বিতরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও প্রশ্ন রয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতেই সাংবাদিকরা সেখানে গিয়েছিলেন বলে তাদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
ঘটনার পর সাংবাদিক মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, হামলা এবং পরে তাদের বিরুদ্ধেই মামলা দেওয়ার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, ওএমএস ডিলার জাহাঙ্গীরের অনিয়ম ও সরকারি পণ্য কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ সামনে আসতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই তাদের পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করা এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একদিকে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ এবং অন্যদিকে ওএমএস ডিলারের বিরুদ্ধে সরকারি পণ্য কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ—দুই বিষয়ই নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে এলে কে দায়ী, তা স্পষ্ট হবে।