কক্সবাজারে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ, অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে অপহরণের অভিযোগ

কামরুল ইসলাম:

কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন এলাকায় জুয়া, মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, অপহরণ ও খুনসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। এসব ঘটনায় জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। বিশেষ করে জেলার সীমান্তবর্তী টেকনাফের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে বাহারছড়ায় এক ব্যক্তিকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে পাহাড়ের দিকে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা। ওই ব্যক্তিকে উদ্ধারের জন্য স্থানীয়রা এগিয়ে এলেও প্রশাসনের সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ ব্যক্তির নাম রফিক (৩৭)। তিনি ওই এলাকার মমতাজ আহমদের ছেলে। পাশাপাশি তিনি বাহারছড়া উত্তর শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল্লাহ কায়সারের বড় ভাই।

অভিযোগ অনুযায়ী, একদল দুর্বৃত্ত অস্ত্রের মুখে রফিককে জিম্মি করে পাহাড়ের দিকে নিয়ে যায়। পরে তাঁর পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয় বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রফিককে উদ্ধারের জন্য স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা ফাঁকা গুলি ছোড়ে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং স্থানীয়দের মধ্যে ভয়ভীতি সৃষ্টি হয়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঘটনার পর তাঁরা রফিককে উদ্ধারের উদ্যোগ নিলেও প্রশাসনের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাননি। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ঘটনার পর বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত রফিকের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে। তাঁকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত এবং কী কারণে তাঁর কাছে টাকা দাবি করা হয়েছে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

এদিকে, বাহারছড়ার এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। তাঁদের দাবি, এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো প্রয়োজন। পাশাপাশি নিখোঁজ রফিককে দ্রুত উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় অপরাধের অভিযোগের বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপহরণসহ গুরুতর অপরাধের অভিযোগ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

তবে রফিককে উদ্ধারের সর্বশেষ অবস্থা, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর স্বাধীন যাচাই ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে এ বিষয়ে আরও তথ্য জানা সম্ভব হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *