মো: নাবিন আহমেদ:
বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে কক্সবাজার শহর বহুমাত্রিক ভূমিকা পালন করে আসছে। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের এই জনপদে পর্যটন শিল্পকে আরও সমৃদ্ধ ও নিরাপদ করতে নিরলসভাবে কাজ করছেন বাংলাদেশ টুরিস্ট পুলিশের কক্সবাজার অঞ্চলের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি স্থানীয় প্রশাসন, পর্যটন ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে পর্যটনখাতে নিরাপত্তা নিশ্চিত ও উন্নয়ন কার্যক্রমকে গতিশীল করে তুলেছেন।
নিরাপত্তার পাশাপাশি কক্সবাজারকে একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। বিশেষ করে পর্যটকদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি তাদের যেকোনো সমস্যায় তাৎক্ষণিক সহায়তা প্রদানে বিশেষায়িত হেল্পলাইন, দ্রুত রেসপন্স টিম এবং পর্যটন স্পটে নিরবচ্ছিন্ন টহল ব্যবস্থা চালু করেছেন।
এছাড়া সৈকতের বিভিন্ন অংশে নজরদারি ক্যামেরা স্থাপন, পর্যটন এলাকায় নারী ও শিশুদের জন্য সুরক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, হারিয়ে যাওয়া পর্যটকদের তাৎক্ষণিক উদ্ধারে টিম গঠনসহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে তিনি পর্যটকদের আস্থা অর্জন করেছেন। তার এসব কার্যকর উদ্যোগে দেশের পর্যটন খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে, যা পর্যটকদের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক পর্যটন খাতেও সুনাম বাড়িয়েছে।
অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ শুধু নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারেই সীমাবদ্ধ নন। তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের পর্যটনবান্ধব আচরণে উৎসাহিত করতে বিভিন্ন সচেতনতামূলক সভা, সেমিনার এবং প্রশিক্ষণের আয়োজন করে আসছেন। পাশাপাশি আবাসন, পরিবহন, খাবার পরিবেশনা ও পর্যটনসেবায় কর্মরতদের জন্য শিষ্টাচার ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে সেবা মানোন্নয়নে কাজ করছেন।
এছাড়া পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন সৈকত নিশ্চিত করতে নিয়মিত ‘বিচ ক্লিনিং ক্যাম্পেইন’ এবং পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রমও তার তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত হচ্ছে। পর্যটকদের স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য ‘লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড’ সেল, শিশুদের হারিয়ে যাওয়া রোধে ব্রেসলেট বিতরণ কর্মসূচি এবং পর্যটন সংশ্লিষ্ট তথ্যসেবা কেন্দ্র স্থাপন—এসব উদ্যোগও প্রশংসিত হয়েছে।
পর্যটন উন্নয়নে প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি আপেল মাহমুদ কক্সবাজারকে একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ এবং পরিবারবান্ধব পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তার এ নেতৃত্ব ও উদ্যোগ আগামীদিনে কক্সবাজারকে দক্ষিণ এশিয়ার একটি শীর্ষ পর্যটন আকর্ষণে পরিণত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।