কর্ণফুলীতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর-লুটপাটের ঘটনায় সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

কামরুল ইসলাম:

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালিয়ে বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। মঙ্গলবার (১৬ জুন) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস রহমান হলে উক্ত সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নাজমুনুর রশীদ মুন্না।

তিনি তার বক্তব্যে অভিযোগ করে বলেন, আবু শাকের, আবু তাহের, আবু হানিফ, আলী হায়দার গং-এর সঙ্গে সন্ত্রাসী সেলিম, নাছির, নাঈম হোসেন মানিক, বরকত আলী, সাখাওয়াত, মনা এবং মোহাম্মদ আলী গং-এর দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। প্রায় সময় তারা তাদেরকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করত।

জায়গা-জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে গত ২৩ মে ইব্রাহিম বুলু এবং আজগরের মধ্যে সংঘর্ষ হলে ইব্রাহিম বুলু গুরুতর আহত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৫ জুন মৃত্যুবরণ করেন। বুলুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সন্ত্রাসী সেলিম গং আবু তাহের গংকে বুলুর হত্যাকারী আজগরের নিকটাত্মীয় বলে ২০-২৫ জন সন্ত্রাসী নিয়ে হামলা চালিয়ে বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করে। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল আবু তাহের গং-এর ভিটেমাটি দখল করা। সন্ত্রাসীরা হাতুড়ি দিয়ে বসতবাড়ি ভাঙচুর করে ঘরের ভেতর ঢুকে মহিলাদেরকে ব্যাপক মারধর করে। সন্ত্রাসীরা নগদ ১২ লক্ষ টাকা, ২ ভরি স্বর্ণ, গুরুত্বপূর্ণ দলিল, টিভি, ফ্রিজ, আলমিরাসহ প্রায় ২২ লক্ষ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। তারা আলী আজগর, আবু শাকের, আবু তাহের, আবু হানিফ, আলী হায়দারের মালিকানাধীন ৫টি ঘর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। যাওয়ার সময় পুনরায় ঘরে ঢুকলে গুম-খুন করার হুমকি দিয়ে চলে যায়। এ সময় হামলাকারীরা নাজমুনুর রশীদ মুন্নার ২ বছর বয়সী শিশু সন্তানকে হত্যার উদ্দেশ্যে পুকুরের পানিতে ছুড়ে ফেলে দিলে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে একটি চিতায় আশ্রয় নিয়ে রাতযাপন করেন। এরপর থেকে তারা খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন বলে জানান।

তিনি বলেন, বুলু হত্যা মামলায় আজগর, আজগরের স্ত্রী, ছেলে, মেয়েসহ গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। নিহত বুলু এবং হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার আজগর উভয়েই তাদের নিকটাত্মীয়। তারাও বুলু হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছেন। কিন্তু তাদের ওপর হামলা, লুটপাট, ভাঙচুর সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে জানান।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর মামলা করতে কর্ণফুলী থানায় গেলে পুলিশ জানায়, এই মামলা নেওয়া যাবে না। দরকার হলে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেন ওসি। বসতবাড়ি উচ্ছেদ ও লুটপাটের ঘটনায় পুলিশ মামলা না নেওয়ায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে দাবি করে এই অবস্থায় পরিবারের অন্যান্য সদস্যসহ তারা জীবনের চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ করেন।

তিনি হামলা ও লুটপাটকারী সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপিসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নাজমুনুর রশীদ মুন্না, ফাতেমা বেগম, জান্নাতুল ফেরদৌস হীরা, তসলিমা কাওছার হীরা, তাসনিয়া প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *