কুমিল্লার বরুড়ায় সরকারি জলাশয়ে মাছ চাষের উদ্যোগ, বদলে যাবে গ্রামীণ অর্থনীতির চিত্র

মোঃআনজার শাহ :-

কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায় সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়গুলোকে পরিকল্পিতভাবে মৎস্য চাষের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য দপ্তর। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন স্থানীয়ভাবে মাছ উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, তেমনি সৃষ্টি হবে নতুন কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা।
উপজেলা মৎস্য দপ্তর সূত্রে জানা যায়, বরুড়ার বিভিন্ন সরকারি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পুকুর-দিঘি মাছ চাষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এসব জলাশয়ে পরিকল্পিতভাবে পোনা অবমুক্তি, আধুনিক চাষপদ্ধতি প্রদর্শন এবং স্থানীয় চাষিদের উদ্বুদ্ধকরণের সুযোগ রয়েছে।

যেসব জলাশয় অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে:
উপজেলা পরিষদ ক্যাম্পাসের পুকুর, বরুড়া থানা পুকুর, বরুড়া পীরগঞ্জ ফাজিল মাদ্রাসার দিঘি, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুকুর, খোশবাস উচ্চ বিদ্যালয়ের দিঘি, ঝলম উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের পুকুর, আড্ডা উমেদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের পুকুর, পয়ালগাছা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের দিঘি, লতিফপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুকুর এবং উপজেলা ভূমি অফিস-সংলগ্ন পুকুরসহ একাধিক জলাশয় এই কর্মসূচির আওতায় আসছে। তবে এসব জলাশয়ের শ্রেণি, মালিকানা, আয়তন ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নথি অনুযায়ী যাচাই করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন:
মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়গুলো শুধু উৎপাদনক্ষেত্র নয়, বরং হতে পারে আধুনিক মৎস্য চাষের বাস্তব প্রদর্শনী কেন্দ্র। রুই, কাতলা, মৃগেলসহ দেশীয় প্রজাতির উন্নতমানের পোনা অবমুক্তির পাশাপাশি সঠিক খাদ্য ব্যবস্থাপনা, নিয়মিত পরিচর্যা ও রোগ প্রতিরোধের আধুনিক কৌশল অনুসরণ করা হলে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব বলে তারা মনে করছেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের অব্যবহৃত বা স্বল্প ব্যবহৃত জলাশয়গুলো উৎপাদনশীল সম্পদে রূপান্তরিত হবে, বাড়বে মাছ চাষে স্থানীয় মানুষের আগ্রহ এবং ইতিবাচক প্রভাব পড়বে গ্রামীণ অর্থনীতিতে।

এ উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সভাপতি কাউসার আলম সেলিম, মৎস্য অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগের উপপরিচালক শ্রীবাস চন্দ্র চন্দ, কুমিল্লার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাকির হোসেন, জেলা মৎস্য দপ্তরের সহকারী পরিচালক আশোক কুমার দাশ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আহসান হাফিজ, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা বোরহান উদ্দিন এবং প্রাথমিক শিক্ষা ও মৎস্য দপ্তরের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী। অনুষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন বরুড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুরাইয়া জামান নিতু।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়ের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, নিয়মিত তদারকি এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে বরুড়াকে মৎস্য উৎপাদনের একটি সম্ভাবনাময় উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। জলাশয়কে বোঝা নয়, সম্পদ হিসেবে কাজে লাগানোর এই উদ্যোগ সফল হলে তা স্থানীয় অর্থনীতি, পুষ্টি ও কর্মসংস্থানে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *