নিজস্ব প্রতিবেদক:
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী ও তাঁদের স্বজনদের স্বস্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে রোগী ও স্বজনদের ভিড়ের মধ্যেই অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বিভিন্ন ধরনের হকার। এমনকি রোগীর শয্যার পাশ পর্যন্ত গিয়ে তাঁদের পণ্য বিক্রির চেষ্টা করতে দেখা যাচ্ছে।
হাসপাতালের হেপাটোলজি ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন ওয়ার্ড ও আশপাশের এলাকায় নিয়মিত হকারদের আনাগোনা রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন রোগী ও তাঁদের স্বজনরা। চিকিৎসাধীন রোগীদের বিশ্রাম ও চিকিৎসার পরিবেশের মধ্যেই হকারদের এভাবে ঘোরাফেরা এবং পণ্য বিক্রির চেষ্টায় অনেকেই বিরক্তি প্রকাশ করেছেন।
রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে অনেক সময় তাঁরা মানসিকভাবে উদ্বিগ্ন ও ব্যস্ত থাকেন। এর মধ্যে ওয়ার্ডের ভেতরে বিভিন্ন পণ্য নিয়ে হকারদের ঘোরাফেরা এবং রোগীর শয্যার পাশে দাঁড়িয়ে পণ্য বিক্রির চেষ্টা পরিস্থিতিকে আরও অস্বস্তিকর করে তোলে। বিশেষ করে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের বিশ্রাম ও চিকিৎসায় এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে বলে তাঁরা মনে করছেন।
হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল স্থানে রোগীদের চিকিৎসা, বিশ্রাম ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। কিন্তু ওয়ার্ডের ভেতরে বহিরাগতদের অবাধ চলাচল থাকলে হাসপাতালের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দেয়। একই সঙ্গে রোগী ও স্বজনদের ব্যক্তিগত পরিসরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
রোগী ও তাঁদের স্বজনরা বলছেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোনো হকার যেন ওয়ার্ডে প্রবেশ করে পণ্য বিক্রি করতে না পারেন, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ডে বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি একটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানে রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে ওয়ার্ডের ভেতরে অপ্রয়োজনীয় লোকজনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। হকারদের অবাধ প্রবেশ বন্ধ করা গেলে রোগী ও তাঁদের স্বজনদের ভোগান্তি কমার পাশাপাশি হাসপাতালের সার্বিক শৃঙ্খলাও আরও উন্নত হবে।
এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের প্রত্যাশা করছেন চিকিৎসাধীন রোগী ও তাঁদের স্বজনরা। তাঁদের দাবি, ওয়ার্ডগুলোকে হকারমুক্ত রেখে রোগীদের জন্য শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চিকিৎসার পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক।