খতমে নবুওয়াত সম্মেলনে জাকারিয়া তাহের সুমনের দৃঢ় সমর্থন

মো. আনজার শাহ:

ইসলামের মৌলিক আকিদা ‘খতমে নবুওয়াত’ রক্ষায় দেশের উলামা—মাশায়েখ ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠস্বর ধ্বনিত হয়েছে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। শনিবার (১৫ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত ‘খতমে নবুওয়াত মহাসম্মেলন’—এ বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৪৫টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। কাদিয়ানি গোষ্ঠীর ভ্রান্ত বিশ্বাসের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন সমাবেশে উপস্থিত লাখো মানুষ।

বরুড়ার জনপ্রতিনিধি জাকারিয়া তাহের সুমনের পক্ষ থেকে আসা প্রতিনিধিদল মহাসম্মেলনে উপস্থিত হয়ে পূর্ণাঙ্গ সমর্থন ও সংহতি প্রকাশ করেন। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন মাওলানা ইউসুফ, যাঁর সঙ্গে বরুড়ার প্রায় আড়াই হাজার আলেম—উলামা ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিনিধিদলের সদস্য মাওলানা ইউসুফ সাংবাদিক মোঃ আনজার শাহ—কে বলেন,

“আজ বরুড়ার জনগণের প্রতিনিধি জনাব জাকারিয়া তাহের সুমনের পক্ষ থেকে আমরা খতমে নবুওয়াত আন্দোলনে সংহতি জানাতে এসেছি। রাসুল (সা.)—এর খতমে নবুওয়াতের স্বীকৃতি ও কাদিয়ানিদের কাফের ঘোষণার দাবিতে আজ এই গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্বের ৪৫টি দেশ থেকে মেহমানরা এসেছেন।”

তিনি আরও বলেন,

“মরহুম এ.কে. আবু তাহের সাহেব ছিলেন বরুড়ার রূপকার ও দুর্গত মানুষের নেতা। ইসলামি মূল্যবোধ সংরক্ষণের যেকোনো কাজে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করতেন। তার সুযোগ্য উত্তরসূরী জাকারিয়া তাহের সুমন পিতার সেই ধারা অব্যাহত রেখেছেন। গুলশান আজাদ মসজিদ, ফরিদাবাদ মাদ্রাসা, লালবাগ মাদ্রাসাসহ প্রতিটি কওমি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাদের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।”

মাওলানা ইউসুফ বলেন,

“বরুড়ার প্রতিটি কওমি মাদ্রাসায় জাকারিয়া তাহের সুমনের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। আলেম—উলামারা তাকে অন্তর থেকে সম্মান করেন এবং তিনিও ইসলামি মূল্যবোধে বিশ্বাসী। ব্যস্ততার কারণে আজ তিনি স্বশরীরে উপস্থিত হতে পারেননি, তাই আমাদের প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছেন।”

তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন,

“জাকারিয়া তাহের সুমন বরুড়ার মানুষকে দিতে এসেছেন, নিতে আসেননি। তার পিতা মরহুম এ.কে. আবু তাহেরও বরুড়ার মানুষকে শুধু ভালোবাসা দিয়ে গেছেন, কখনো কিছু নেননি।”

বরুড়ার প্রতিনিধি দলে মহাসম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা কারী আহমদুল্লাহ, মামুনির রশিদ খোকন, আবু নাসের মোহাম্মদ মনিক, তরিকুল ইসলাম নাঈম, মো. মোতালেব হোসেন, মো. আনজার শাহসহ বরুড়ার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

উল্লেখ্য, খতমে নবুওয়াত, তথা বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)—এর পর আর কোনো নবী নেই—এই বিশ্বাস ইসলামের মৌলিক আকিদার অন্যতম। কাদিয়ানি বা তথাকথিত আহমদিয়া মুসলিম জামাত নামক ভ্রান্ত গোষ্ঠী এই মৌলিক বিশ্বাসের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রয়েছে। এর বিরুদ্ধে দেশের উলামায়ে কেরাম ও ঈমানদার জনগণ সর্বদা সোচ্চার এবং ঐক্যবদ্ধ অবস্থানে রয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *