খিলগাঁওয়ে রাজউকের নির্মাণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে বহুতল ভবন নির্মাণ, প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি স্থানীয়দের

স্টাফ রিপোর্টার:

রাজধানীর খিলগাঁও ত্রিমোহনী এলাকার পানির পাম্প রোডে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) নির্মাণবিধি ও অনুমোদিত নকশা উপেক্ষা করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডের রসুলবাগ এলাকার খিলগাঁও-১২৩৯ নম্বর হাজী আকতার আলী রোডের ভেতরে আজাদ গং নামে একটি পক্ষের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণাধীন ভবনটির চারপাশে রাজউকের প্রচলিত নির্মাণবিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ন্যূনতম উন্মুক্ত স্থান বা সেটব্যাক রাখা হয়নি। ভবনটি আশপাশের স্থাপনার একেবারে কাছাকাছি নির্মাণ করা হচ্ছে বলে দাবি তাদের। এতে ভবিষ্যতে ভবনটির বাসিন্দাদের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী ভবন ও বসতবাড়ির বাসিন্দারাও ঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, একটি বহুতল ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে অনুমোদিত নকশা, ভবন নির্মাণবিধি, নিরাপত্তাব্যবস্থা, অগ্নিনিরাপত্তা এবং পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের বিষয়গুলো নিশ্চিত করা জরুরি। কিন্তু অভিযুক্ত নির্মাণকাজে এসব বিধিবিধান যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দারা আরও অভিযোগ করেন, ভবনের চারপাশে পর্যাপ্ত জায়গা না রেখে নির্মাণকাজ পরিচালনা করা হলে একদিকে যেমন পাশের ভবনগুলোর আলো-বাতাস চলাচলে বাধা সৃষ্টি হতে পারে, অন্যদিকে জরুরি পরিস্থিতিতে ফায়ার সার্ভিস বা অন্যান্য উদ্ধারকারী সংস্থার কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে অগ্নিকাণ্ড, ভূমিকম্প বা অন্য কোনো দুর্যোগের সময় ভবনের আশপাশে পর্যাপ্ত খোলা জায়গা না থাকলে ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন তারা।

তাদের দাবি, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত নকশা ও সংশ্লিষ্ট ভবন নির্মাণবিধি অনুসরণ করেই বহুতল ভবন নির্মাণ করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু আলোচিত ভবনটির নির্মাণকাজে অনুমোদিত নকশা ও বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ রয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সরেজমিন পরিদর্শন ও নথিপত্র যাচাই করে বিষয়টি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, নিয়মবহির্ভূতভাবে নির্মাণকাজ চলার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে উদ্বেগ তৈরি হলেও এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান ও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ তাদের চোখে পড়েনি। দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ চলতে থাকায় জননিরাপত্তা ও নগর পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন তারা।

স্থানীয়রা বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অনুমোদিত নকশা ও নির্মাণবিধি না মেনে ভবন নির্মাণের অভিযোগ প্রায়ই ওঠে। এসব ক্ষেত্রে সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে পরবর্তীতে নির্মাণকাজ বন্ধ করা কিংবা ভবনের ত্রুটি সংশোধন করা আরও জটিল হয়ে পড়ে। তাই নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

এলাকাবাসীর দাবি, প্রথমে ভবনটির অনুমোদিত নকশা, নির্মাণের বৈধতা, জমির ব্যবহার, প্রয়োজনীয় সেটব্যাক এবং অন্যান্য কারিগরি ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয় যাচাই করা হোক। তদন্তে কোনো ধরনের অনিয়ম বা নির্মাণবিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

তারা আরও বলেন, ভবনটি অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী নির্মিত হচ্ছে কি না, সেটি শুধু কাগজপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে নয়, সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমেও নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অনুমোদিত নকশার সঙ্গে বাস্তব নির্মাণকাজের কোনো অসঙ্গতি থাকলে তা দ্রুত চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, নির্মাণকাজের সময় নিরাপত্তাব্যবস্থা যথাযথভাবে নিশ্চিত করা না হলে শ্রমিক ও আশপাশের মানুষের জন্যও দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। নির্মাণসামগ্রী রাখার স্থান, চলাচলের পথ এবং পার্শ্ববর্তী স্থাপনার নিরাপত্তার বিষয়টিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আজাদ গংয়ের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, জননিরাপত্তা, পরিকল্পিত নগরায়ণ এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করতে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসন দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে নির্মাণবিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

এলাকাবাসী বলছেন, রাজধানীতে পরিকল্পিত ও নিরাপদ নগরায়ণ নিশ্চিত করতে হলে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম বা বিধিবহির্ভূত কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকি ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমেই কেবল এমন অভিযোগের পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব। তাই জনস্বার্থে দ্রুত সরেজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন খিলগাঁওয়ের স্থানীয় বাসিন্দারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *