খুলনা প্রতিনিধি:
খুলনা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে চলমান অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ তানভীর আহমেদের নেতৃত্বে মহানগরীর খাদ্য গুদাম তদারকি, পরিদর্শন কার্যক্রম, ওএমএস (ওপেন মার্কেট সেল) কর্মসূচি, ডিলার নিয়োগ ও খাদ্য সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় গুরুতর অনিয়ম সংঘটিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগের তালিকায় রয়েছেন খাদ্য পরিদর্শক মমতাজ পারভীন, শেখ কাজল রহমান, তরুণ বালা, ঝুমুর দাস, কাজী নাহিদ হাসান, মোঃ আবুবক্কার সিদ্দিক এবং রাশেদ আহম্মেদ আল রিপন। এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুস বাণিজ্য, ঠিকাদার ও ডিলারদের সঙ্গে আঁতাত, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, বিল বৃদ্ধি করে কমিশন গ্রহণ এবং সরকারি সম্পদের অপব্যবহারের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
ওএমএস ও খাদ্য গুদাম তদারকিতে অনিয়ম
সূত্রমতে জানা গেছে, খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে পরিচালিত ওএমএস কার্যক্রমে নিয়মিত অনিয়ম হচ্ছে। নির্ধারিত দামে ও নির্দিষ্ট পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতরণ না করে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও নির্দিষ্ট ডিলারদের কাছে অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে নিম্নমানের চাল বিতরণ, ওজনে কম দেওয়া এবং তালিকাভুক্ত ভোক্তাদের বাদ দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
খাদ্য গুদাম পরিদর্শনের ক্ষেত্রেও নিয়মের তোয়াক্কা না করে কাগজে-কলমে তদারকি দেখিয়ে বাস্তবে দায়সারা পরিদর্শন করা হচ্ছে। ফলে গুদামে খাদ্য সংরক্ষণে মান নিয়ন্ত্রণ ভেঙে পড়েছে এবং সরকারি খাদ্যশস্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের তত্ত্বাবধানে অভিযোগের বিস্তার
একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র দাবি করেছে, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ তানভীর আহমেদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে অভিযুক্ত পরিদর্শকরা মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্য নিয়মিত অবৈধ লেনদেন ও সুবিধা গ্রহণ করা হচ্ছে।
ব্যবসায়ী ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ভুক্তভোগীরা জানান, এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সাধারণ মানুষ ন্যায্যমূল্যে খাদ্য সামগ্রী থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সরকারের কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এক ব্যবসায়ী বলেন, “ঘুস না দিলে কোনো কাজ হয় না। খাদ্য গুদাম থেকে শুরু করে ওএমএস—সব জায়গায় অনিয়ম চলছে।”
দুদক ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ দাবি
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীরা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
খাদ্য অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“এ ধরনের অভিযোগ নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই এসব অনিয়মের কথা শোনা যাচ্ছে। উচ্চপর্যায় থেকে সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।”
অভিযুক্তদের নীরবতা
এ বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি। খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ক্ষোভে ফুঁসছে খুলনাবাসী
এ ঘটনায় খুলনাবাসীর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে। দ্রুত তদন্ত, অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের অপসারণ এবং স্বচ্ছ খাদ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন নগরবাসী।