গণতন্ত্র মা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টার:

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ, আহত ও নির্যাতনের শিকার ছাত্র-জনতার প্রতি সংহতি প্রকাশ এবং গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘গণতন্ত্র মা দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান।

বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্র অধিকার গণতন্ত্র পরিষদ—‘The Mother of Democracy’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছেন এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগ জাতি কখনো ভুলবে না।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ছাত্র-জনতার সাহস, আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার এবং মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি নতুন মাত্রা পেয়েছে। তাদের এই ত্যাগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

আয়োজকদের বক্তব্য অনুযায়ী, জুলাই ২০২৪-এর ঘটনায় প্রায় ১,৫০০ জন শহীদ, ২,০০০ জন আহত এবং প্রায় এক লাখ ছাত্র-জনতা মামলা ও হামলার শিকার হয়েছেন। বক্তারা এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং শহীদ পরিবারের যথাযথ সম্মান ও সহায়তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির অনুপস্থিতিতে তাঁর প্রতিনিধিত্ব করে বক্তব্য দেন নাদিম চৌধুরী। তিনি মৎস্যজীবীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছয় পার্টি সংগঠনের প্রধান-মুখ্য সমন্বয়ক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সভাপতি পদপ্রার্থী এবং বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি সংসদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাদিম চৌধুরী বলেন, “গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগ জাতি চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। গণতন্ত্র, ভোটাধিকার এবং মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। বিভেদ নয়, জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমেই একটি গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব।”

প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন মেঘনা আলম, কেন্দ্রীয় নেতা ও মুখপাত্র, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল। তিনি বলেন, “গণতন্ত্র কোনো ব্যক্তি বা দলের একক সম্পদ নয়; এটি জনগণের অধিকার। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে রাজনৈতিক সচেতনতা, সাংগঠনিক প্রশিক্ষণ এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।”

বিশেষ অতিথি মো. জাহিদুল ইসলাম জাহিদ বলেন, জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগ জাতির জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তাদের অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে। একই সঙ্গে গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং জনগণের অধিকার রক্ষায় জাতীয়তাবাদী শক্তির নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এম. এ. মজনু মিয়া। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, “গণতন্ত্র মা দিবস শুধু একটি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নয়; এটি গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘদিনের সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও নেতৃত্বকে সম্মান জানানোর একটি প্রতীকী আয়োজন। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যারা অবদান রেখেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।”

তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি, জাতীয় নেতৃবৃন্দ, মৎস্যজীবী দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান।

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন মৎস্যজীবী দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের জাতীয় নেতারা।

অনুষ্ঠানের শেষপর্বে সমাজসেবা, সংগঠন, শিক্ষা, মানবকল্যাণ এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিশেষ অবদান রাখা বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের প্রতিনিধিদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

বক্তারা তাঁদের সমাপনী বক্তব্যে বলেন, গণতন্ত্র, সুশাসন, ভোটাধিকার ও মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে। একই সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগকে যথাযথ মর্যাদা দিয়ে একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *