মোঃআনজার শাহ
কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার ১৩ নম্বর আদ্রা ইউনিয়নে গরুর খামারের আড়ালে মাদক ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। এ কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় একটি পরিবারকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। ঘটনার প্রতিবাদে আয়োজিত মাদকবিরোধী র্যালি ও সমাবেশ থেকে অভিযুক্ত মাদক ব্যবসায়ীকে দ্রুত গ্রেপ্তারের আলটিমেটাম দিয়েছেন বরুড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি কায়সার আলম সেলিম।
একই সঙ্গে হুমকির শিকার পরিবারটির পাশে সামাজিকভাবে দাঁড়ানোর জন্য রাজনৈতিক নেতাকর্মী, সামাজিক প্রতিনিধি ও এলাকার সর্বস্তরের মানুষের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মাদকবিরোধী র্যালি ও সমাবেশ:
সোমবার আদ্রা ইউনিয়নে আয়োজিত মাদকবিরোধী র্যালিটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে এক সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক এনামুল সাহেব ও স্থানীয় একটি প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ।
এ ছাড়া বরুড়া উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশ নেন।
ঐতিহ্যের এলাকায় মাদকের কালো ছায়া:
সমাবেশে বক্তব্যের শুরুতে আদ্রা ইউনিয়নের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরেন কায়সার আলম সেলিম। তিনি বলেন, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনের বাবা প্রয়াত এ.কে.এম আবু তাহের এই ইউনিয়নেরই সন্তান ছিলেন। মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনও এ এলাকার সন্তান।
দীর্ঘদিন স্থানীয় চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করা নেতা ফজলুল হকের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এত ঐতিহ্যবাহী একটি এলাকায় বারবার মাদক-সংক্রান্ত অভিযোগ ওঠা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। মাদকের কালো ছায়া থেকে এলাকাকে মুক্ত করতে এখনই কার্যকর ও সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
খামারের আড়ালে মাদক সেবন ও বিক্রির অভিযোগ:
কায়সার আলম সেলিম বলেন, কয়েক দিন আগে আদ্রা ইউনিয়নের একটি বাড়িতে গরুর খামার করার কথা বলে একটি ঘর নির্মাণ করা হয়। বাড়ির মালিকের কাছ থেকে জায়গাটি ভাড়া নিয়ে সেখানে প্রকাশ্যে মাদক সেবন ও বিক্রির কার্যক্রম চালানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এলাকার এক পুরুষ ও কয়েকজন নারী এ কর্মকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানান। পাশাপাশি ওই ঘরে যাতায়াতকারীদের বিষয়ে খোঁজখবর নিতে শুরু করেন তারা। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে সাহসী পরিবারটিকে হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
‘অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে’:
প্রতিবাদী পরিবারটির সাহসিকতার প্রশংসা করে কায়সার আলম সেলিম বলেন, মাদকাসক্ত ব্যক্তি ধীরে ধীরে বিবেক ও বিচারবোধ হারিয়ে ফেলে এবং নিজেকে সীমাহীন ক্ষমতার অধিকারী মনে করতে শুরু করে। তাই মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
উপজেলা পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে অভিযুক্ত মাদক ব্যবসায়ীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে। মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের গাফিলতি মেনে নেওয়া হবে না।
প্রতিবাদী পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান:
দলীয় নেতাকর্মী ও সামাজিক প্রতিনিধিদের মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান বরুড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি।
তিনি বলেন, এই মুহূর্তে প্রতিবাদী পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যতে মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস হারিয়ে ফেলবেন সাধারণ মানুষ। ভয়ভীতি উপেক্ষা করে মাদকবিরোধী আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর অঙ্গীকার করেন। একই সঙ্গে বরুড়া উপজেলাকে মাদকমুক্ত করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।