স্টাফ রিপোর্টার:
রাজধানীর গুলশান সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের এক নকলনবীশ গিয়াসের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং অফিসকেন্দ্রিক একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তিনি দীর্ঘ সময় ধরে একই অফিসে কর্মরত থেকে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দলিল নিবন্ধনের বিভিন্ন ধাপে প্রভাব বিস্তার, দলিলের শ্রেণি পরিবর্তনের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং কমিশনের নামে অর্থ গ্রহণের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক দলিলের কার্যক্রমে তার প্রত্যক্ষ ভূমিকা থাকায় আর্থিক অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন এই প্রতিবেদকের হাতে আসেনি।
স্থানীয় কয়েকজন অভিযোগকারী দাবি করেন, গিয়াসের নামে-বেনামে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে একাধিক ফ্ল্যাট, বাড়ি ও অন্যান্য স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। তার পরিবারের সদস্যদের নামেও সম্পদ থাকার অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া একটি স্থানীয় বাজার এলাকায় একাধিক দোকান এবং একটি অভিজাত ফ্ল্যাটে বসবাসের দাবিও করা হয়েছে। তবে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অফিসে তার একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট রয়েছে এবং ওই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে হয়রানি, অপমান কিংবা ভয়ভীতির মুখে পড়তে হয়। কয়েকজন অভিযোগকারী দাবি করেন, সাংবাদিক বা অন্য কেউ অনিয়ম নিয়ে অনুসন্ধানের চেষ্টা করলে বিভিন্ন ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়। তবে এসব অভিযোগেরও স্বাধীন যাচাই সম্ভব হয়নি।
সুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী বিশ্লেষকদের মতে, সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন করা। অভিযোগ সত্য হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে তা স্পষ্টভাবে জানানো—উভয়ই জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত গিয়াসের বক্তব্য জানার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ভবিষ্যতে তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
অভিযোগকারীরা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নিবন্ধন অধিদপ্তর, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।