স্টাফ রিপোর্টার:
টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মরত উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি চাকরির আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ায় এলাকায় তাকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষায়, ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষদের কাছ থেকে তিনি নিয়মিতভাবে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে চলেছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, আব্দুর রাজ্জাক টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ১ নম্বর মগড়া ইউনিয়নের চৌধুরী মালঞ্চ মধ্যপাড়া গ্রামের মৃত আনছের আলীর দ্বিতীয় সন্তান। জীবদ্দশায় আনছের আলী পাঁচ সন্তান রেখে মৃত্যুবরণ করেন। পরিবারের আর্থিক অবস্থা কখনোই সচ্ছল ছিল না এবং তার সন্তানদের কেউই উল্লেখযোগ্যভাবে স্বাবলম্বী হতে পারেননি। তবে আব্দুর রাজ্জাক ইউনিয়ন ভূমি অফিসে চাকরি পাওয়ার পর থেকেই তার জীবনে হঠাৎ করেই অর্থনৈতিক উত্থান ঘটে—যা এলাকাবাসীর কাছে ‘আলাদিনের চেরাগ’ পাওয়ার মতো বিস্ময়কর বলে মনে হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দুর রাজ্জাক টাঙ্গাইল পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের এনায়েতপুর মৌজায় প্রায় ৬০ শতাংশ জমি ক্রয় করেছেন। প্রতি শতাংশ জমির মূল্য আনুমানিক ১৫ লক্ষ টাকা বলে জানা গেছে। শুধু জমি কেনাই নয়, ওই জমির ওপর দশতলা ভবনের ফাউন্ডেশন দিয়ে ইতোমধ্যে তিনতলা ভবন নির্মাণ সম্পন্ন করেছেন তিনি। সরকারি চাকরির একজন উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তার পক্ষে এত বিপুল অর্থ কোথা থেকে এলো—এ প্রশ্ন এখন স্থানীয় মানুষের মুখে মুখে।
ইউনিয়ন পরিষদ ও ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা একাধিক ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যেখানে জমি খারিজ বা নামজারির জন্য সরকার নির্ধারিত ফি মাত্র ১ হাজার ১৭০ টাকা, সেখানে আব্দুর রাজ্জাক সাধারণ জনগণের কাছ থেকে ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে জমির মালিকদের নানা ধরনের ভয়ভীতি ও হয়রানির শিকার হতে হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, ভূমি সংক্রান্ত সেবা নিতে গিয়ে তারা কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েন। অতিরিক্ত টাকা না দিলে ফাইল আটকে রাখা, অযৌক্তিক আপত্তি তোলা কিংবা ভবিষ্যতে আরও জটিলতা সৃষ্টি করার হুমকি দেওয়া হয়। ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে উৎকোচ দিতে রাজি হন।
মৃত আনছের আলীর পাঁচ সন্তানের মধ্যে
প্রথম সন্তান বেল্লাল হোসেন একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক,
দ্বিতীয় সন্তান আব্দুর রাজ্জাক উপসহকারী ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা,
তৃতীয় ও চতুর্থ সন্তান কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত,
এবং পঞ্চম সন্তান মজিবুর রহমান একজন পুলিশ কনস্টেবল।
এদের মধ্যে কেবল আব্দুর রাজ্জাকের ক্ষেত্রেই এমন অস্বাভাবিক সম্পদের পাহাড় গড়ে ওঠায় প্রশ্ন উঠেছে তার আয়ের বৈধতা নিয়ে।
এলাকাবাসী ও সচেতন মহল মনে করছেন, আব্দুর রাজ্জাকের অর্জিত সম্পদের উৎস তদন্ত করা জরুরি। তার নামে থাকা জমি, ভবন এবং আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে, যেন অবিলম্বে তার সম্পদের বৈধতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
(পর্ব–১)