চকবাজারে চাঁদাবাজির অভিযোগে ৫ জন গ্রেফতার, মোবাইল ও টাকা উদ্ধার

কামরুল ইসলাম:

চট্টগ্রামের চকবাজার এলাকায় এক কলেজছাত্রকে ভয়ভীতি দেখিয়ে মোবাইল ফোন ও টাকা নেওয়া এবং পরে পরিবারের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে চকবাজার থানা পুলিশ।

পুলিশ জানায়, মামলার বাদী নুর মোহাম্মদ সিফাত সরকারি সিটি কলেজ, চট্টগ্রামের উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। তার সঙ্গে এজাহারনামীয় ১ নম্বর আসামি সামির আহম্মেদের পূর্বপরিচয় ছিল।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে সামির আহম্মেদের ডাকে বাদী চকবাজার থানাধীন কে.বি. আমান আলী রোডের সালেহ আহম্মেদ বাই লেইন সংলগ্ন মাঠে গেলে সামিরসহ অন্য আসামিরা সেখানে উপস্থিত হয়। একপর্যায়ে আসামিরা চাকু ও পেশিশক্তির ভয় দেখিয়ে বাদীর কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন এবং মানিব্যাগে থাকা ২ হাজার টাকা নিয়ে নেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরে আসামিরা বাদীর প্যান্টের পকেটে একটি সিগারেটের প্যাকেট ঢুকিয়ে দিয়ে তার পকেটে ইয়াবা পাওয়া গেছে বলে মিথ্যা অভিযোগ তোলে এবং ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর বাদীর পরিবারের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা এনে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়। টাকা না দিলে তাকে হত্যা এবং ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ অবস্থায় বাদীর মা এক আত্মীয়ের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা ধার নিয়ে বাদীর ব্যবহৃত নগদ নম্বরে পাঠান। পরে আসামিরা বাদীর নম্বর থেকে বিভিন্ন নম্বরে ওই টাকা স্থানান্তর করে নেয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। আরও টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে আসামিরা বাদীকে ১৬ সেপ্টেম্বর ভোর ৫টা পর্যন্ত জোরপূর্বক আটক করে রাখে এবং তার পিঠ, গলা ও মাথায় মারধর করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে অতিরিক্ত টাকা না পেয়ে চলে যাওয়ার সময় মামলা করলে ভবিষ্যতে তাকে হত্যা করার হুমকি দেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় চকবাজার থানায় ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে মামলা নম্বর-০৬ দায়ের করা হয়। মামলায় দণ্ডবিধির ৩৪২/৩২৩/৩৮৫/৩৮৬/৫০৬/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলা দায়েরের পর চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনের নেতৃত্বে অভিযান শুরু করে পুলিশ। ১৮ সেপ্টেম্বর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চকবাজার থানাধীন ওমর আলী মাতব্বর রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় আসামি সামির আহম্মেদকে (২২) গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্য ও দেখানো মতে ভিকটিমের কাছ থেকে আদায়কৃত চাঁদার ৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চান্দগাঁও থানাধীন মৌলভী পুকুরপাড় এলাকা থেকে এজাহারনামীয় আসামি মো. আকরাম হোসেন জয়কে (২৩) গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্য ও দেখানো মতে ভিকটিমের কাছ থেকে বলপূর্বক নেওয়া একটি ইনফিনিক্স মোবাইল ফোন, যার আনুমানিক মূল্য ১১ হাজার ৫০০ টাকা, এবং আদায়কৃত চাঁদার ২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

পরে ১ ও ২ নম্বর আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এজাহারনামীয় আসামি কাজী মো. রাকিব হোসাইন (২৩) এবং মো. আহনাফুল আলম প্রকাশ আদিবকে (২১) তাদের নিজ নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামিরা জানায়, এজাহারনামীয় পলাতক আসামি আবু সুফিয়ান (১৮)-সহ তারা বাদীর কাছ থেকে বলপূর্বক নেওয়া একটি iPhone 16 Pro Max মোবাইল ফোন মো. হাসনাতের (২২) কাছে বিক্রি করে দেয়।

ওই তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তে প্রাপ্ত আসামি মো. হাসনাতকে (২২) চকবাজার থানাধীন বালি আর্কেড মার্কেটের ৪র্থ তলায় অবস্থিত ‘আপগ্রেড’ নামের মোবাইল ফোনের দোকান থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার হেফাজত থেকে বাদীর কাছ থেকে বলপূর্বক নেওয়া একটি iPhone 16 Pro Max মোবাইল ফোন, যার আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা, উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে।

মামলার এজাহারনামীয় পলাতক আসামি আবু সুফিয়ানকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *