চতুর্থ ব্যাচে ব্র্যান্ড গঠনের পাঁচ ধাপ শেখাচ্ছেন গোলাম কিবরিয়া – আস-সুন্নাহ স্কিল ডেভেলপমেন্টের ‘দি আর্ট অফ সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং’ কোর্সে

মোঃ আনজার শাহ:

একটি সাধারণ ব্যবসায়িক আইডিয়াকে কীভাবে কোটি টাকার ব্র্যান্ডে পরিণত করা যায়? কী সেই জাদুকরী সূত্র যা একটি নামকে মানুষের হৃদয়ে চিরস্থায়ী করে তোলে? এসব প্রশ্নের উত্তর পাচ্ছেন আস-সুন্নাহ স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের ‘দি আর্ট অফ সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং’ কোর্সের চতুর্থ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। অভিজ্ঞ প্রশিক্ষক গোলাম কিবরিয়ার নির্দেশনায় চলছে ব্র্যান্ড গঠনের এক অভূতপূর্ব শিক্ষা।

“সম্ভাবনা থেকে লাখো টাকার ব্র্যান্ড ইক্যুইটি, প্রতিটি সফল ব্র্যান্ডের শুরুটা হয় একটি সাধারণ আইডিয়া দিয়ে,” বলছিলেন গোলাম কিবরিয়া চতুর্থ ব্যাচের ক্লাসরুমে। তিনি শিক্ষার্থীদের শেখাচ্ছেন কীভাবে একটি আইডিয়ার সম্ভাবনা চিহ্নিত করে তা থেকে ব্র্যান্ড ইক্যুইটি বা বাজার মূল্য তৈরি করা যায়।

“আপনার আইডিয়ায় কি সম্ভাবনা আছে? মানুষের কি এটা দরকার? এটা কি সমস্যার সমাধান দিচ্ছে?” – এই তিনটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে শেখাচ্ছেন তিনি। সঠিকভাবে পরিচিতি ও বিশ্বাস গড়ে তুলতে পারলেই ব্র্যান্ডের প্রকৃত মার্কেট ভ্যালু তৈরি হয় – এই মূলমন্ত্র দিচ্ছেন শিক্ষার্থীদের।

পাঁচটি উপাদানে তৈরি হচ্ছে ব্র্যান্ড পরিচয়
চতুর্থ ব্যাচ শিখছে ব্র্যান্ড আইডেন্টিটি সেটআপের পাঁচটি সোনালি উপাদান:

১. নাম নির্বাচন: “নাম হবে সহজ, মনে রাখার মতো এবং অর্থবহ,” বলছিলেন গোলাম কিবরিয়া। শিক্ষার্থীরা শিখছেন কীভাবে এমন নাম বেছে নিতে হয় যা একবার শুনলে আর ভোলা যায় না।

২. রঙের জাদু: “লাল রঙ দেখলে মানুষের হৃদস্পন্দন বাড়ে, নীল রঙ বিশ্বাস তৈরি করে” – রঙের এই মনোবিজ্ঞান শেখাচ্ছেন স্যার। প্রতিটি রঙ কী আবেগ বা মনোভাব প্রকাশ করে, তা বিস্তারিত আলোচনা হচ্ছে।

৩. লোগো ডিজাইন: ভিজ্যুয়াল পরিচয়ের এই মূল ভিত্তি কীভাবে তৈরি করতে হয়, তা হাতে-কলমে শেখানো হচ্ছে।

৪. স্লোগান তৈরি: “কয়েকটি শব্দেই আপনার পুরো ব্র্যান্ডের গল্প বলতে হবে,” চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছেন গোলাম কিবরিয়া।

৫. আইনি সুরক্ষা (IPR): “আপনার ব্র্যান্ড আইনীভাবে রেজিস্ট্রেশন না করলে যে কেউ নকল করতে পারবে” – এই গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা দিচ্ছেন তিনি।

“প্রতিশ্রুতিই ব্র্যান্ডের প্রাণ, ব্র্যান্ড মানে একটা প্রতিশ্রুতি যা আপনি প্রতিদিন রাখেন,” গোলাম কিবরিয়ার এই উক্তি ছড়িয়ে পড়ছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে। তিনি শেখাচ্ছেন কীভাবে সঠিক প্রতিশ্রুতি (Promise) দিতে হয় এবং ভোক্তার মনে কাঙ্ক্ষিত অবস্থান (Positioning) তৈরি করতে হয়।

“আপনার ব্র্যান্ড কি সবচেয়ে সস্তা? সবচেয়ে মানসম্পন্ন? নাকি সবচেয়ে ট্রেন্ডি? এটা পরিষ্কার করুন,” বলছিলেন তিনি।

চারটি স্তম্ভে দাঁড়িয়ে সফল ব্র্যান্ড
কোর্সের সবচেয়ে আলোচিত অংশ – হোলিস্টিক সেলিং প্রপোজিশন। চারটি শক্তিশালী স্তম্ভের উপর কীভাবে ব্র্যান্ড দাঁড় করাতে হয়, তা শেখাচ্ছেন গোলাম কিবরিয়া:

  • স্তম্ভ ১ – পণ্যের মান (Product Value): “যদি আপনার পণ্যই ভালো না হয়, তাহলে কোনো মার্কেটিং কাজ করবে না।” গুণমান ও স্থায়িত্ব নিয়ে গভীর আলোচনা।

  • স্তম্ভ ২ – আবেগের সংযোগ (Emotional Value): “মানুষ পণ্য কেনে না, অনুভূতি কেনে!” কীভাবে পণ্য বিশ্বাস ও আনন্দ তৈরি করবে তা শেখানো হচ্ছে।

  • স্তম্ভ ৩ – সামাজিক মর্যাদা (Social Value): “আপনার ব্র্যান্ড ব্যবহার করলে মানুষ কি গর্ব অনুভব করবে?” কীভাবে ব্র্যান্ড একজন ব্যবহারকারীর সামাজিক ইমেজ ও স্ট্যাটাস বাড়ায়।

  • স্তম্ভ ৪ – নৈতিক মূল্য (Spiritual/Ethical Value): “হালাল, সৎ এবং সমাজবান্ধব না হলে ব্র্যান্ড হয় না, ব্যবসা হয়,” ইসলামিক নৈতিকতার আলোকে ব্যবসা পরিচালনার গুরুত্ব।

“Wow! বলাতে হবে গ্রাহককে, আপনার ব্র্যান্ডে এমন কী আছে যা দেখে মানুষ Wow! বলবে?” – নতুনত্ব (Novelty Value) এবং WOW ফ্যাক্টর নিয়ে চলছে উত্তেজনাপূর্ণ আলোচনা।

টার্গেট কনজিউমার:
“সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, সবার জন্য পণ্য মানে কারো জন্য নয়!” বয়স, পছন্দ, লাইফস্টাইল, আয়ের ধরন, শিক্ষা, ভৌগোলিক অবস্থান – সব বিশ্লেষণ করে সঠিক লক্ষ্য গ্রাহক খুঁজে বের করতে শেখানো হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা:

  • চতুর্থ ব্যাচের উদ্যোক্তা রাফি আহমেদ: “আমার ছোট বিজনেস আইডিয়া এখানে এসে বুঝলাম কীভাবে ব্র্যান্ড বানাতে হয়।”

  • মার্কেটিং পেশাজীবী সাদিয়া খানম: “হোলিস্টিক সেলিং-এর চারটি স্তম্ভ আমার চিন্তাধারাই বদলে দিয়েছে।”

  • নতুন উদ্যোক্তা ফারহানা ইয়াসমিন: “রঙের মনোবিজ্ঞান শেখার পর প্যাকেজিং বদলে বিক্রয় ৪০% বেড়েছে মাত্র দুই সপ্তাহে।”

বিশেষজ্ঞদের মতামত:

  • ড. তাহমিনা সুলতানা: “গোলাম কিবরিয়া স্যারের শিক্ষাপদ্ধতি অনন্য কারণ তিনি আধুনিক মার্কেটিং-এর সাথে ইসলামিক নৈতিকতার সুন্দর সমন্বয় করেন।”

  • মার্কেটিং কনসালট্যান্ট মাহমুদুর রহমান: “বাংলাদেশে এই ধরনের সমন্বিত কোর্স বিরল। সততা, স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতার সাথে ব্যবসা করে যে সফল হওয়া যায়, তা প্রমাণ করছে এই কোর্স।”

সংজ্ঞা ও লক্ষ্য:
কোর্সে ব্র্যান্ড সৃষ্টির সংজ্ঞা ভাইরাল হয়ে যাচ্ছে: “একটি আইডিয়াকে এমনভাবে গড়ে তোলা, যাতে সেটি মানুষের মনে পরিচিতি, বিশ্বাস ও ভালোবাসা তৈরি করে।” চতুর্থ ব্যাচ এই সংজ্ঞাকে ধারণ করে তাদের স্বপ্নের ব্র্যান্ড গড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

【দ্রুত তথ্য】
কোর্স: দি আর্ট অফ সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং
প্রতিষ্ঠান: আস-সুন্নাহ স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার
বর্তমান ব্যাচ: চতুর্থ
প্রশিক্ষক: গোলাম কিবরিয়া
ফোকাস: ব্র্যান্ড গঠনের পাঁচটি ধাপ
বিশেষত্ব: ইসলামিক নৈতিকতা + আধুনিক মার্কেটিং
উপযুক্ত: উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী, মার্কেটার, শিক্ষার্থী
পূর্ববর্তী সাফল্য: ৩টি ব্যাচে ১০০+ সফল গ্র্যাজুয়েট

আগামীর ব্র্যান্ড লিডাররা তৈরি হচ্ছে এখানে। গোলাম কিবরিয়ার নির্দেশনায় শিক্ষার্থীরা শিখছেন ব্যবসা নয়, বরং এমন ব্র্যান্ড তৈরি করতে যা মানুষের জীবন স্পর্শ করবে, সমাজে অবদান রাখবে এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম টিকে থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *