চোরাচালান মামলার আসামি যুবদল নেতা, ছিলেন আইনশৃঙ্খলা কমিটিতেও

নিজস্ব প্রতিবেদক:

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক বেলাল হোসেন ওরফে সুমনের বিরুদ্ধে হাতিয়া থানায় করা একটি চোরাচালান মামলায় অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেওয়া হয়েছে। ওই মামলায় তাঁকে আসামি করার পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি হয়েছিল। এরপরও তিনি উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটিসহ বিভিন্ন সরকারি কমিটির সদস্য ছিলেন এবং প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মসূচিতেও অতিথি হিসেবে অংশ নিয়েছেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২২ নভেম্বর হাতিয়ার চানন্দি ইউনিয়নের কালাবাহাদুর বাজারসংলগ্ন মেঘনা নদীতে একটি ইঞ্জিনচালিত কাঠের নৌকায় বিপুল পরিমাণ সিমেন্ট ও কোমল পানীয় মিয়ানমারে পাচারের জন্য নেওয়া হচ্ছিল। এ সময় কোস্টগার্ড চারজনকে আটক করে। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বেলাল হোসেন, মাহে আলম ও এনায়েত উল্যাহ প্রকাশ এনাম মেম্বারকে মামলায় আসামি করা হয়।

মামলার এজাহার ও সাক্ষীদের জবানবন্দির তথ্য অনুযায়ী, নৌকাটিতে প্রায় ৭০০ বস্তা সিমেন্ট ও ৪০০ ক্যারেট কোমল পানীয় ছিল। এসব পণ্য মিয়ানমারে নেওয়ার উদ্দেশ্যে নৌকায় তোলা হয়েছিল বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ১০ মে আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্রে বেলাল হোসেনসহ সাতজনকে আসামি করা হয়। অভিযোগপত্রে বেলালের নাম রয়েছে ৭ নম্বরে। হাতিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন চন্দ্র নাথ অভিযোগপত্রটি দাখিল করেন। মামলার প্রথম চার আসামিকে ঘটনাস্থল থেকে কোস্টগার্ড গ্রেপ্তার করেছিল।

এদিকে দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বেলাল হোসেনকে যুবদলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরে তাঁর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়।

বেলাল হোসেন চর আমানউল্যাহ ইউনিয়নের বাসিন্দা। ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিনি ওই ইউনিয়নের নির্বাচিত সদস্য ছিলেন। খাসেরহাট বাজারে রড-সিমেন্টের ব্যবসাও করেন তিনি।

চোরাচালান মামলায় নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে বেলাল হোসেন বলেন, তিনি ২০০৯ সাল থেকে সুনামের সঙ্গে রড ও সিমেন্টের ব্যবসা করে আসছেন। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ইন্ধনে পরিকল্পিতভাবে তাঁকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা সম্পর্কে তিনি আগে অবহিত ছিলেন না বলেও দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, একজন ব্যবসায়ী হিসেবে তাঁর কাজ পণ্য বিক্রি করা। ক্রেতা পণ্য কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন, তা তাঁর জানার দায়িত্ব নয়। মামলার বিষয়ে জানতে পেরে তিনি বুধবার নোয়াখালী জেলা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন। রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি শাহদাত হোসেনও তাঁর জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

চরজব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান বলেন, বেলালের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কাগজ দুই দিন আগে থানায় পৌঁছেছিল। পরে তিনি আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন। এ মামলা ছাড়া থানায় তাঁর বিরুদ্ধে আর কোনো মামলা নেই।

সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকিব ওসমান বলেন, বেলাল হোসেন উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটি ও কৃষি কমিটির সদস্য ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে হাতিয়া থানার মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির বিষয়টি জানার পর তাঁকে কমিটিতে না রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *