ছাগলনাইয়ায় মধ্যরাতে রাজপথের পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের বাড়িতে বিএনপি নেতার উপহার

ইমাম হোসেন ইমন:

ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলায় কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিকতা, প্রচার-প্রচারণা কিংবা জনসমাগম ছাড়াই গভীর রাতে রাজপথের পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাড়িতে গিয়ে আর্থিক সহায়তার চেক পৌঁছে দিয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলমগীর সিদ্দিকী। দীর্ঘ ১৬ বছর আওয়ামী লীগের শাসনামলে মামলা-হামলা, গ্রেপ্তার, নির্যাতন ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও রাজপথে সক্রিয় থাকা নেতাকর্মীদের অবদানকে সম্মান জানাতেই তিনি এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

জানা গেছে, মধ্যরাতে একে একে বিভিন্ন নেতাকর্মীর বাড়িতে গিয়ে তাদের হাতে ব্যক্তিগতভাবে চেক তুলে দেন আলমগীর সিদ্দিকী। পুরো কার্যক্রমে ছিল না কোনো মঞ্চ, ব্যানার, ফটোসেশন কিংবা রাজনৈতিক শোডাউন। এতে উপস্থিত নেতাকর্মী ও স্বজনদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

উত্তরা ব্যাংক পিএলসি, বিরিঞ্চি শাখায় পরিচালিত ‘মেসার্স নিলয় এন্টারপ্রাইজ’-এর হিসাব থেকে এই আর্থিক সহায়তার চেক প্রদান করা হয়। প্রাপ্ত চেক অনুযায়ী, রাজপথের লড়াকু কর্মী আব্দুল মমিনকে ৫ লাখ টাকা, কাজী জসিমকে ১ লাখ টাকা (চেকের তারিখ: ০৭ জুলাই ২০২৬), আলমগীর হোসেনকে ১ লাখ টাকা (চেকের তারিখ: ১২ জুলাই ২০২৬), জয়নাল আবদীনকে ১ লাখ টাকা (চেকের তারিখ: ১২ জুলাই ২০২৬), কাজী ওহিদুর রহমানকে ৫০ হাজার টাকা (চেকের তারিখ: ১২ জুলাই ২০২৬) এবং শহীদ উল্লাহকে ৫০ হাজার টাকার চেক (চেকের তারিখ: ১২ জুলাই ২০২৬) প্রদান করা হয়।

স্থানীয়দের মতে, রাজনৈতিক অঙ্গনে সাধারণত প্রকাশ্য সভা-সমাবেশ বা আনুষ্ঠানিক আয়োজনের মাধ্যমে সহায়তা প্রদানের ঘটনা বেশি দেখা যায়। তবে কোনো ধরনের প্রচার ছাড়াই গভীর রাতে নেতাকর্মীদের বাড়িতে গিয়ে ব্যক্তিগতভাবে তাদের সম্মান জানিয়ে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার এই উদ্যোগ এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই এটিকে কর্মীবান্ধব রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন।

এ বিষয়ে আলমগীর সিদ্দিকী বলেন, “বিগত ১৬ বছর ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে আমাদের অনেক নেতাকর্মী মামলা, হামলা, নির্যাতন ও নানা ধরনের হয়রানির শিকার হয়েছেন। তারপরও তারা দল ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের স্বার্থে রাজপথ ছেড়ে যাননি। তাদের এই আত্মত্যাগ কোনোভাবেই অর্থ দিয়ে মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়।”

তিনি আরও বলেন, “এটি কোনো সাহায্য বা লোকদেখানো দান নয়। রাজপথের লড়াকু ভাইদের প্রতি ভালোবাসা, সম্মান ও কৃতজ্ঞতার প্রতীক হিসেবে আমি তাদের বাড়িতে গিয়ে এই উপহার পৌঁছে দিয়েছি। আমি বিশ্বাস করি, দলের জন্য যারা কঠিন সময়ে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”

আগামী দিনেও দলের সকল ত্যাগী, সংগ্রামী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের পাশে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

এদিকে হঠাৎ গভীর রাতে নেতার এমন উপস্থিতি এবং সম্মানসূচক আর্থিক সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন উপহারপ্রাপ্ত নেতাকর্মীরা। তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নানা নির্যাতন, মামলা ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও দলের জন্য কাজ করলেও অনেক সময় তাদের অবদান মূল্যায়িত হয়নি। এমন সময়ে কোনো প্রচার-প্রচারণা ছাড়াই একজন নেতা তাদের বাড়িতে এসে খোঁজখবর নেওয়া এবং সম্মান জানানো নিঃসন্দেহে তাদের জন্য অনুপ্রেরণার বিষয়।

তাদের ভাষ্য, প্রচারের আলো থেকে দূরে থেকে যারা নীরবে কর্মীদের পাশে থাকেন এবং কঠিন সময়ে তাদের মূল্যায়ন করেন, তারাই প্রকৃত অর্থে দলের রাজপথের কান্ডারি ও তৃণমূলের ভরসার প্রতীক।

প্রয়োজনে এটি আরও পেশাদার সংবাদপত্রের ইনভার্টেড পিরামিড (lead-first) স্টাইলে সম্পাদনা করে দিতে পারি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *