আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
পাকিস্তানে লিটারে ৫ কমে পেট্রোল-ডিজেল ৪০৯ রুপি জ্বালানির বাজারে লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির মধ্যে অবশেষে কিছুটা দাম কমিয়েছে পাকিস্তান সরকার। দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ৫ রুপি কমিয়েছে। শুক্রবার (১৫ মে) পাকিস্তানের পেট্রোলিয়াম বিভাগ জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। নতুন দাম মধ্যরাত থেকেই কার্যকর হয়েছে এবং আগামী এক সপ্তাহ পর্যন্ত বহাল থাকবে।
সংশোধিত মূল্য অনুযায়ী, পাকিস্তানে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০৯.৫৮ রুপি। আর পেট্রোল বিক্রি হবে ৪০৯.৭৮ রুপি লিটারে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধির পর এবারই প্রথম জ্বালানির দাম কমানো হলো। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতকে কেন্দ্র করে হরমুজ প্রণালি অবরোধের পর বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হয়। এর জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ব্যাপক বেড়ে যায়, যার প্রভাব পড়ে পাকিস্তানেও। সবশেষ গত সপ্তাহে পাকিস্তান সরকার পেট্রোলের দাম লিটারপ্রতি ১৪.৯২ রুপি এবং ডিজেলের দাম ১৫ রুপি বাড়িয়েছিল। তখন পেট্রোলের দাম দাঁড়ায় ৪১৪.৭৮ রুপি এবং ডিজেলের দাম হয় ৪১৪.৫৮ রুপি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা চালানোর পর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় তেহরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যায়। এরপর থেকেই পাকিস্তানে জ্বালানির দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকে।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে, সরকারকে একাধিক দফায় ৫০ শতাংশের বেশি মূল্যবৃদ্ধি করতে হয়। মার্চের প্রথম সপ্তাহেই পাকিস্তান সরকার দুই দফায় জ্বালানির দাম বাড়ায়। সে সময় সরকার জানিয়েছিল, আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় দেশীয় বাজারে মূল্যবৃদ্ধির চাপ আরও বেশি ছিল। তবে সবচেয়ে বড় মূল্যবৃদ্ধি দেখা যায় এপ্রিল মাসে। গত মাসে পাকিস্তান সরকার পেট্রোলের দাম এক লাফে লিটারপ্রতি ১৩৭ রুপি বাড়িয়ে ৪৫৮.৪ রুপিতে উন্নীত করেছিল, যা দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। পরে এক টেলিভিশন ভাষণে প্রধানমন্ত্রী পেট্রোলের ওপর আরোপিত লেভি ৮০ রুপি কমানোর ঘোষণা দিলে দাম নেমে আসে ৩৭৮ রুপিতে। এরপরও চলতি মাসের শুরুতে আন্তর্জাতিক বাজারে সমপরিমাণ বৃদ্ধি না থাকলেও অতিরিক্ত প্রায় ২৭ রুপি লেভি আরোপ করে সরকার পেট্রোল ও ডিজেলের দাম আরও ২৬.৭৭ রুপি বাড়ায়। এক সপ্তাহ পর আবারও জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি করা হয়, ফলে দাম প্রায় ৪০০ রুপির ঘরে পৌঁছে যায়। পরে গত সপ্তাহে নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আবারও প্রায় ১৫ রুপি বাড়ানো হয়েছিল জ্বালানির দাম।